মোদিবিরোধী জোট ‘শক্ত-পোক্ত’ করতে দিল্লিতে মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ

দেশের গণতন্ত্র বাঁচাতে মোদিবিরোধী জোট আরও ‘শক্ত-পোক্ত’ করতে এবার থেকে দুই মাস পরপর দিল্লি যাবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

পাঁচ দিনের দিল্লি সফর শেষে শুক্রবার বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠককালে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বিরোধীদের একজোট হয়ে লড়াইয়ের ডাক দেন।

কলকাতায় ফেরার আগে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে বাঁচাতে সবাইকে একজোট হতে হবে। তিনি বলেন, মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে লড়াই চলবে।

রাজধানী দিল্লি ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘যেসব উদ্দেশ্য নিয়ে দিল্লি সফরে এসেছিলাম, তা সবই সফল হয়েছে।’

তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন ঘিরে মোদিবিরোধী জোটের যে জল্পনা চলছে, সে সম্পর্কে করা প্রশ্নের উত্তর তিনি আবারও সুকৌশলে এড়িয়ে যান।

বিরোধী দলগুলোর ঐক্যের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র বাঁচাতে বিরোধীদের এক জোট হতেই হবে। দিল্লি ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বিরোধী জোটের আগামী রূপরেখাও এঁকে দেন।

তিনি বলেন, বহু বিরোধী নেতার সঙ্গে দিল্লিতে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। কোভিড নিয়মের জন্য সংসদের সেন্ট্রাল হলে যেতে পারিনি। তাই অনেকের সঙ্গে আবার দেখাও হয়নি।

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামবৃদ্ধির ইস্যুতে বিজেপিকে কোণঠাসা করতে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান মমতা ব্যানার্জি।

পেট্রপণ্যের দামবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রকে আবারও আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘তেল-গ্যাসের দাম রোজ রোজ বাড়ছে। মানুষ নাজেহাল। দেশজুড়ে দিন দিন বেকারত্বও বাড়ছে।

কলকাতায় ফিরে আসার আগে স্পষ্টভাষায় মমতা বুঝিয়ে দেন, বিরোধী শিবিরগুলোকে একজোট করতে যদি তাকে বারবার দিল্লি আসতে হয়, সেজন্য তিনি প্রস্তুত।

তবে বিরোধী শিবিরের ‘মুখ’ কে হবেন, সেই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এখনই ভাবনা-চিন্তা করতে তিনি রাজি নন। মমতা আগেও জানিয়েছেন, বিরোধী শিবিরের নেতা নন তিনি, ক্যাডার মাত্র। এ দিনও তিনি বলেন, এ মুহূর্তে দেশ বাঁচানোই এখন একমাত্র লক্ষ্য।

পশ্চিমবঙ্গে গত বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রথমবার দিল্লি সফরে এসেছিলেন মমতা। জল্পনা ছিল-কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করে বিরোধী জোট নিয়ে কথা বলতে পারেন মমতা ব্যানার্জি।

সফরসূচি মেনে সোনিয়া, রাহুল ও কেজরিওয়ালদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করলেও শারদ-সাক্ষাৎ না হওয়ায় একাধিক প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় রাজনীতিতে। তবে সফরের শেষ দিনে মমতা জানান, ‘শারদজির সঙ্গে সরাসরি কথা না হলেও ফোনে কথা হয়েছে।’

দিল্লিতে আন্দোলনরত কৃষকদের প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, কৃষক আন্দোলনের পাশে আগেও আমি ছিলাম, এখনও আছি।

আগামী দিনেও থাকব। তিনি বলেন, কেউ তো আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তবে পশ্চিমবঙ্গে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে।

মোদি সরকারের কৃষিনীতির বিরুদ্ধে টানা সাত মাস চলা কৃষক আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মমতা এ সফরকালে দেখা করবেন বলে আগে মনে করা হয়েছিল।

এদিকে, করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মমতা বলেন, টিকাকরণ যাতে ঠিকমতো এগোয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি। তাকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

এ বিভাগের অন্যান্য