বড়লেখায় আরও ছয় বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় আরও ছয় বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন। বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী গতকাল শনিবার (১৯ জুন) প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন শেষে এই অভিযোগ করেন।

প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- কাঠালতলী উচ্চ বিদ্যালয়, হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয়, তালিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মাইজগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয়।

এদিকে উপজেলার রহমানিয়া ও পাল্লাথল চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের কাজের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু এগুলোর কাজ এখনো অর্ধেকও হয়নি।

এর আগে গত শুক্রবার (১৮ জুন) ইউএনও উপজেলার আরও চারটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে নিম্নমানের সামগ্রী দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে, নারীশিক্ষা একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয়, চান্দ্রগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে কাঠালতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ঊর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণে ১ কোটি ১ লাখ টাকা, হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা, তালিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবণ নির্মাণে ঊর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা, মাইজগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণে ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ঊর্ধ্বমূখী ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯২৮ টাকা, রহমানিয়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাল্লাথল সরকারি প্রাথমিক ভবন নির্মাণে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৮ ব্যয় হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বড়লেখা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মীর আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তারা প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দেখেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তালিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাদের কিউরিং ঠিকমতো হয়নি। ছাদের প্লাস্টার উঠে যাচ্ছে। বাথরুমের ফিটিংস নিম্নমানের। শ্রেণী কক্ষেও ডেস্ক-বেঞ্চ নিম্নমানের কাঠ লাগানো হয়েছে। শ্রেণীকক্ষের স্মাট বোর্ড ব্যবহার অনুপযোগী। হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয়ে বালু মিশ্রিত মাটি দিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। ভবনের নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করতে দেখা গেছে। শ্রেণীকক্ষে মোজাইক কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। কাঠলতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে কাজের সাইটে নিম্নমানের ইট পাওয়া গেছে। পূর্বে নির্মিত ভবনে কিছুস্থানে ফাটল দেখা গেছে। মাইজগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাইটে নিম্নমানের ইট পাওয়া যায়। ভবনের কাজের কিউরিং ঠিক মতো হয়নি। টেকাহালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনে কিউরিং ঠিকমতো হয়নি। বাথরুমের ফিটিংস নিম্নমানের। মটর ও পানির ট্যাংক বিদ্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়নি। শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এদিকে গুণগত মান যাচাই করতে তালিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্লাস্টারের নমুনা ও শ্রীধরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাথরের নমুনা সিলগালা করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন রোববার (২০ জুন) বিকেলে বলেন, ‘ ত্রুটিগুলো সংশোধনের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ঠিকাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিপ্তরের আওতাধীন তিনটি বিদ্যালয়ের কাজের তদারক কর্মকর্তা ফাতেয়া ফজলে রাব্বি বলেন, ‘করোনার কারণে শ্রমিক সংকট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম হওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানের কাজে বিলম্ব হয়েছে। সময় বাড়িয়ে এগুলোতে কাজ করা যাবে। সুযোগ আছে। অন্যপ্রতিষ্ঠানে চলমান কাজ আছে। পাথরের যে ত্রুটি পাওয়া গেছে, এগুলো আগেই ঠিকাদারকে সরাতে বলা হয়েছিল। নির্মাণ সামগ্রীর গুণগত মান যাচাই করেই আমরা কাজ করাচ্ছি। মানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী বলেন, ‘শনিবার আরও ৮টি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। এরমধ্যে ৬টি প্রতিষ্ঠানে ভবনের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও বেশকিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। এর আগে আরও চারটিতে অনিয়ম পাওয়া গেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তাৎক্ষণিক পরীক্ষায় নিম্নমানের ইট পাওয়া গেছে। ইটসহ সকল নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণ করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বলা হয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্লাস্টার ও পাথরের গুণগত মান যাচাই করতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো সিলগালা করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। কাজের মনিটরিংয়ের দুর্বলতা আছে। এজন্য ত্রুটি পাওয়া গেছে। দরপত্রের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী প্রত্যেক ভবনের যাবতীয় কাজ যথাযথ না হলে ঠিকাদারদের বিল না দিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনিয়মের বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবগত করা হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য