মাধবপুরে আবহাওয়ায় বিরুপ প্রভাব: কপাল পুড়লো কৃষকের

মাধবপুর প্রতিনিধি: আসছে বৈশাখ মাস। নতুন ধান তুলতে ব্যস্থ কৃষকদের ঘরে ঘরে থাকার কথা নবান্নের প্রস্তুতি কিন্তু তারা এখন দুশচিন্তায় ভুগছেন। মাধবপুর উপজেলার কৃষদের মুখে নেই আনন্দের ছাপ। তারা এখন নানাবিধ দুশ্চিন্তায় দিশেহারা। কারণ তাদের কষ্টের অধিকাংশ ফসলি ধানের জমি নষ্ট হয়ে গেছে অজানা এক রোগে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সবগুলো বোরো ধানের জমিতেই এই অজানা রোগ দেখা দিয়েছে। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশংকায় উপজেলার কৃষকরা এখন প্রায় দিশেহারা। তারা সরকারি সহযোগী কামনা করছেন। তারা বলছেন ধান উৎপাদন কম হলে পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে তাদের অনেক কষ্ট হবে তাই তারা সরকারের কাছে আর্থিকভাবে সাহায্য সহযোগিতা চান।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আল মামুন হাসান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এ ব্যাপারে অবগত আছি। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা ইতোমধ্যে কৃষদের সাথে কথা বলেছি। আমাদের কৃষি অফিসের লোকজন মাঠে কাজ করছেন, কৃষদেরকে পরামর্শ দিচ্ছে।
এই রোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আসলে বৈরি আবহাওয়ার কারণে হয়েছে। আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে ধানের শীষ সাদা হয়ে যাওয়া বা চিটা হয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে প্রচণ্ড ঝড়ের কারণে ধানের ভ্রুণ পরে যাওয়া ও তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ধানের শীষ পড়ে গেছে বলে তিনি জানান। কিছুদিন আগে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির উপরে থাকায় ধানের মধ্যে হিট ইঞ্জুরি হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, হাইব্রিড জাতের ধানগুলো ও কৃষি অফিস থেকে যে ধানের বীজ দেওয়া হয়েছিল সেগুলো ফসলি জমির কোনো ক্ষতি হয়নি। বেশি ক্ষতি হচ্ছে উপসি জাতের ধানগুলো।
এই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভয়ের কিছু নেই। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠা সম্ভব। গর্ভাবস্থায় জমিতে পানি রাখতে হবে। প্রতি ১০ লিটার পানির সাথে ৬০ গ্রাম করে এমওআর ও ৬০ গ্রাম করে সালফার স্প্রে করতে হবে। এই স্প্রে বিকালের দিকে করতে হবে। ইতোমধ্যে আমরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে স্প্রে করেছি এবং কৃষকদের পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছি। আমাদের কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কাজ করছেন। সাধারণত প্রতি জমিতে চিটার পরিমান ১০ থেকে ১২ শতাংশ হয়ে থাকে কিন্তু এইবার রোগের কারণে হয়তো একটু হতে পারে।
উল্লেখ্য, মাধবপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, মাধবপুর উপজেলায় মোট কৃষি জমির পরিমাণ ২০ হাজার ৫০০ হেক্টর। এত মধ্যে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে ১১ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে। হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করা হয়েছে ৫৪০ হেক্টর জমিতে। উপজেলা কৃষি অফিসের লক্ষমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি সেখানে অর্জন হয়েছে ১১ হাজার ৫৭০ হেক্টর। গত মৌসুমে ধান উৎপাদন হয়েছিল ৫৫ হাজার মেট্রিক টন। এবার সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬১ হাজার মেট্রিক টন, যা গতবারের চেয়ে বেশি। বৈরি আবহাওয়ায় কিছু ক্ষতি হলেও তারা তাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবেন বলে কৃষি কর্মকর্তা আশা ব্যক্ত করেন।

সিলেটের সময়-এবিএ

এ বিভাগের অন্যান্য