বিশুদ্ধ পানি সংকটে ভূগছে আজমিরীগঞ্জের কয়েকটি ওয়ার্ড

আজমিরিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে চলছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। প্রতিবছর ডিসেম্বরের শেষের দিক থেকে শুরু করে মে মাসের শেষ পর্যন্ত বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা গেলেও চলতি বছরে এই বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানির জন্য প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে ঘরে ঘরেই চলছে হাহাকার। এমনকি শৌচাগারের পানির জন্যও ভোগান্তিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

২০০৪ সালের ২১ জানুয়ারি আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সদরকে পৌরসভা হিসাবে ঘোষণা করা হলেও এখন সীমানা নির্ধারণ করা যায়নি। আর এই সীমানা নির্ধারণের মামলা জটিলতায় গত ১৬ বছরের অধিক সময়েও এখানে কোন নির্বাচন আয়োজন করা যায়নি। এতে ‘গ’ শ্রেণীভুক্ত এ পৌরসভায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ।

সরজমিনে পৌরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায়, নলকূপগুলো দিয়ে পানি একেবারেই উঠছে না। নিত্য-ব্যবহারের পানির জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে নিচ্ছেন পানি। যে নলকূপগুলোতে অল্প পানি উঠছে সেই নলকূপে পানীয় পানির জন্য দীর্ঘ লাইন দিয়ে পানি সরবরাহ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রেজুয়ান মিয়া, সাগর মিয়া, শাহেদ আলী মিয়াসহ অনেকেই জানান- ৭ নং ওয়ার্ডের প্রায় সব বাড়িতেই নলকূপগুলোই অকেজো হয়ে পড়েছে। দুয়েকটি বাড়িতে যা পানি আসছে সবাই খাবার পানির জন্য এসব বাড়িতে ভিড় করছে। বাকি নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য পানির জন্য এক মাত্র ভরসা মসজিদের পুকুরটি। দিনের বেলা পুরুষ ও বাচ্চাদের গোসলসহ যাবতীয় কাজ মসজিদের পুকুরে সারলেও বাড়ির মহিলাদের জন্য রাতের বেলা প্লাস্টিকের ড্রাম, বালতি ভর্তি করে নিতে হচ্ছে পুকুরের পানি। এমনকি শৌচাগারের পানিও নিতে হয় এই পুকুর থেকে।একই অবস্থা পৌরসভার ৪ নম্বর, ৫ নম্বর, ৬ নম্বরসহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডেও। পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা টিটু মিয়া, আলাল মিয়াসহ বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান- নিত্যব্যবহার্য কাজ পাশের মসজিদের পুকুরের পানিতে সমাধান হলেও খাবার পানির জন্য যেতে হচ্ছে আধা কিলোমিটার দূরে।

এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার নতুন প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মতিউর রহমান খাঁন জানান, আমরা এ বিষয়ে পরিষদ থেকে জেলায় একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি দুমাস আগেই। আশা করছি খুব শিগগিরই আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেয়ে এ বিষয়ে কাজ শুরু করতে পারবো।

সিলেটের সময়-এবিএ

এ বিভাগের অন্যান্য