২০২০ কেড়ে নিয়েছে সিলেটের কামরানকে

তিনি দীর্ঘদিন সিলেট সিটির মেয়র ছিলেন। পরে দুইবার নির্বাচনে হেরেও ছিলেন। মহানগর আওযামী লীগের সভাপতিও ছিলেন অনেকদিন। পরে এই পদও হারিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়র থাকুন বা না থাকুন কিংবা দলের পদে থাকা না থাকা; এসবের চেয়েও সত্য ছিলো- তিনি ছিলেন সিলেট নগরের এক অবিচ্ছেদ্য মুখ। তার সদাহাস্য মুখ ছিলো সকলের প্রিয়। তিনি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

ঘাতক ২০২০ কেড়ে নিয়েছে নিয়েছে সিলেটবাসীর প্রিয় এই মানুষকেও। করোনার ছোবলে মারা গেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান (৬৯)। গত ১৫ জুন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কামরান।

সিলেটের রাজনীতি থেকে সামাজিকতা, সাংস্কৃতিক অঙ্গন সবখানেই ছিলো কামরানের সরব উপস্থিতি। বলা ভালো বিকল্পহীন মানুষ। সংকীর্ন দলীয় রাজনীতির সীমানা ছাড়িয়ে তিনি ছিলেন সকল দলের মানুষের কাছেই গ্রহণযোগ্য। তার মৃত্যুর পর আবারও তার প্রমাণ মিলেছে। মতপথ ভুলে সকলেই আপসোস করেছেন কামরানের জন্য।

মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বদরউদ্দিন আহমদ কামরান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য। এর আগে তিনি টানা ৩০ বছর সিলেটে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

গত ৫ জুন সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ৬৯ বছর বয়সী কামরানের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। তার আগে ২৭ মে তার স্ত্রী আওয়ামী লীগ নেত্রী আসমা কামরান কোভিড-১৯ আক্রান্ত হন।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৭ জুন কামরানকে ঢাকায় নিয়ে এসে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে প্লাজমা থেরাপিও দেওয়া হয়েছিল।

বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় ১৯৭৩ সালে তিনি প্রথমবার সিলেট পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ সালে হন সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান।

২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর কামরান মেয়র মনোনীত হন। ২০০৩ সালে সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে জিতে মেয়র পদ ধরে রাখেন তিনি।

২০০৭-০৮ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আরও অনেক রাজনীতিবিদের মত কামরানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সে সময় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা কামরান কারাগারে থেকে নির্বাচন করেও বিপুল ভোটে জয়ী হন।

২০১৩ সালের নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে হেরে গিয়ে মেয়র পদ হারান কামরান। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি লড়েছিলেন, কিন্তু জয়ী হতে পারেননি।

১৯৮৯ সাল থেকে সিলেট শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০২ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হন কামরান। সেই দায়িত্ব তিনি সামলেছেন প্রায় দেড় যুগ।

২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ পাওয়া কামরান বর্তমান কমিটিতেও একই পদে ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য