কাশ্মীরের নির্বাচনে বিজেপিবিরোধী জোটের বিশাল জয়, আটক ৭৫

কাশ্মীরের নির্বাচনে বিজেপিবিরোধী জোটের বিশাল জয় পেয়েছে।  এদিকে বিজেপির হারের পর কাশ্মীরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৭৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে ভারতীয় পুলিশ। নির্বাচনে ২৮০ আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৭৪টি আসন।  কাশ্মীর উপত্যকা ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৩টি আসন।

স্থানীয় রাজনৈতিক জোট পিএজিডি পেয়েছে ১১২টি, বিজেপি ৭৪টি এবং জোটের সমর্থনকারী কংগ্রেস ২৬টি আসন পেয়েছে। ভারতীয় সংবিধান থেকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংবলিত ৩৭০ ধারা বিলোপের পর প্রথম নির্বাচনে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিল কাশ্মীরিরা।

কাশ্মীরে জেলা নির্বাচনের পর রাজ্যের অন্তত ৭৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপিবিরোধী জোটের জয়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কায় রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মীদেরকে আটক করেছে পুলিশ।  স্থানীয় কয়েকজন নেতা ও পুলিশের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স ও আলজাজিরা।

২৮ নভেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট আট ধাপের জেলা উন্নয়ন কাউন্সিল নির্বাচনের প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, ২৮০ আসনের মধ্যে
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আটককৃতদের মধ্যে কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নিষিদ্ধ দল জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সদস্য রয়েছেন। সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা রোধে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে নির্বাচনে অংশ নেয়া জোটের অন্যতম শরিক ও কাশ্মীরের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের মুখপাত্র ইমরান নবী দার বলেছেন, এই আটকের মাধ্যমে জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে।

ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেন, জোটের বিজয়ের মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয়, মোদি কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা কাশ্মীরিরা মেনে নেয়নি।

ভারতপন্থী কিন্তু কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনে বিশ্বাসী জোট- পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকার ডিক্লারেশন নির্বাচনে ২৮০টি আসনের মধ্যে ১১২টিতে জয় লাভ করেছে। আট ধাপে নেয়া এ নির্বাচন ২৮ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৯ ডিসেম্বর শেষ হয়। নির্বাচনে মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ৭৪টি আসন পায় যেখানে মাত্র ৩টি ছিল কাশ্মীর উপত্যকা থেকে। গত বছরের আগস্টে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার পর সেখানকার অনেক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকর্মীকে আটক করে ভারত সরকার। এছাড়া ওই অঞ্চলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা এখনও কার্যকর রয়েছে। তখন যারা আটক হয়েছিলেন তাদের অনেকেই স্থানীয় নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন।

কাশ্মীরের রাজনীতিকরা বলছেন, নির্বাচনের ফলাফলে এটাই পরিষ্কার হয়েছে যে কাশ্মীরের জনগণ গত বছরের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাকিস্তান সহযোগিতা করছে এমন অভিযোগ ভারত অনেক বছর থেকেই করে আসছে। এই অঞ্চলে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক, সশস্ত্র যোদ্ধা ও সরকারি বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য