রিলিফ প্যাকেজে সই না হলে দুর্ভিক্ষ নামবে যুক্তরাষ্ট্রে

করোনা মহামারীর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যেই ‘নীরব দুর্ভিক্ষ’ চলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই প্রস্তাবিত করোনা রিলিফ প্যাকেজের অনুমোদন না দিলে তা ভয়াবহ রূপ নেবে। খাবার কেনারও সামর্থ্য থাকবে না লাখ লাখ নাগরিকের।

ভাড়াবাড়ি ছেড়ে পথে নামতে হবে বহু নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারকে। অচল হয়ে যাবে চিকিৎসা খাত, বন্ধ হবে সরকারি হাসপাতালের সব সেবা। প্রায় ৯০ হাজার কোটি ডলারের বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজে আজ শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সই করার কথা রয়েছে।

প্যাকেজটি মার্কিন কংগ্রেসে পাস হলেও তাতে কিছু সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নাহলে সই না করার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। আগামী কয়েক মাস সপ্তাহে ৬০০ ডলার করে পাওয়ার জন্য এই প্যাকেজের দিকে তাকিয়ে আছে লাখ লাখ বেকার মার্কিনি।

ট্রাম্প যদি সত্যিই এতে স্বাক্ষর না করেন বড় ধরনের বিপদে পড়ে যাবেন তারা। সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্ট।

করোনার কারণে বিশ্বে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সব মিলিয়ে ১ কোটি ২০ লাখ লোক এখন বেকার। বেশিরভাগেরই এমন সঞ্চয় নেই যে তারা আর চলতে পারবেন। অনেকেই ধার করে এতদিন চলেছেন। আর ধার নেয়ারও সুযোগ নেই তাদের। ঘরে খাবার কেনার পয়সা নেই।

এরকম এক অবস্থায় খাবারের জন্য লাইন দিচ্ছেন ফুড ব্যাংকে হাজার হাজার মানুষ। চলতি বছরের এপ্রিল-মে থেকে দেশটির রাজ্যে রাজ্যে, শহরে শহরে নজিরবিহীন এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় কয়েক সপ্তাহের আলোচনা-বিতর্কের পর চলতি সপ্তাহে (সোমবার) মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হয় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত করোনা রিলিফ বিলটি।

একই দিনে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি (১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন) ডলারের সরকারি ব্যয় তহবিলও পাস হয়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যেকে সপ্তাহে ৬০০ ডলার, বেকারভাতা সপ্তাহে ৩০০ ডলার করে দেয়া হবে।

একই সঙ্গে পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম ঋণ বাবদ ২৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, বাড়িভাড়ায় সহায়তা বাবদ আড়াই হাজার কোটি ও স্কুল-কলেজ বাবদ ৮ হাজার ২০০ কোটি ডলারের তহবিল রাখা হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প তাতে সই না করার হুমকি দিয়েছেন।

তিনি বলছেন, ৬০০ ডলারের জায়গায় সপ্তাহে ২ হাজার ডলার দিতে হবে। কিন্তু এদিকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন, এখন সপ্তাহে ৬০০ ডলারের নিচে দিলেও তারা আপত্তি করবেন না।

মার্কিন ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিডিসি বলছে, তাদেরও তহবিল শেষের দিকে। এই অর্থে চিকিৎসা খাতেরও ভাগ আছে। এই মুহূর্তে অর্থ ছাড় না হলে অনেক সরকারি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে যাদের বীমা নেই, তারা করোনায় আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা পাবেন না। ফলে দেশটিতে বেড়ে যাবে মৃত্যুহার। এনপিআর

বড়দিনে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, গলফ খেলছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প : চলতি বছরটি সম্ভবত বেঁচে থাকা মার্কিনিদের চেয়ে সবচেয়ে খারাপ বছর।

এরমধ্যেই সরকারি শাটডাউনের শঙ্কা আর অর্থনৈতিক রিলিফ প্যাকেজকে ঝুলিয়ে রাখা নতুন আতঙ্ক নিয়ে এসেছে মার্কিনিদের জীবনে। এ বছরটিতে নায়ক হওয়ার সুযোগ ছিল ট্রাম্পের সামনে। কিন্তু তার নেতৃত্বে শুধু রোগ আর মৃত্যুই আসেনি।

এসেছে রাজনৈতিক বিবাদ, দেউলিয়াত্ব, ক্ষুধা আর ধ্বংস হয়ে যাওয়া জীবন। বড়দিনের ছুটিতে ফ্লোরিডায় গলফ খেলছেন ট্রাম্প। সঙ্গে আছেন সদ্য ক্ষমা পাওয়া দুর্নীতিগ্রস্ত বিশ্বস্তজনরা। বৃহস্পতিবার ডেমোক্রেটদের একটি প্রস্তাব পাস হওয়ার পথ বন্ধ করেছেন হাউজ রিপাবলিকানরা।

এটি পাস হলে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তরা সরাসরি ২ হাজার ডলার পেতেন। একটি সূত্র বলছে, এমনটি করতে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই।

তিনি চান, বাইডেন এমন এক দেশের ক্ষমতায় বসুন, যেটি ক্ষুধা আর দারিদ্র্যের কারণে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। এ ধরনের দেশকে চালানো খুব কঠিন হবে বলেই মনে করেন তিনি। গলফ খেলতে খেলতেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এক বৈঠকে বসেছিলাম আজ।

সবাই আমাকে প্রশ্ন করছে, ডেমোক্রেটরা একটা নির্বাচন চুরি করে নেয়ার পরেও রিপাবলিকানরা কেন অস্ত্র তুলে নিচ্ছে না? কেন তারা লড়াই করছে না। সবাই বলছিল আমি ৮ সিনেটরকে জিতিয়ে এনেছি। তারা খুব দ্রুতই তা ভুলে গেছে।’ সিএনএন

ক্ষমতা ছাড়ার আগেই সৌদি আরবকে অস্ত্র দিতে চান ট্রাম্প : আর মাত্র কয়েক দিন পর ক্ষমতা ছাড়তে হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। আসছে ২০ জানুয়ারি তার স্থলাভিষিক্ত হবেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

তার আগেই সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করে যেতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর আলজাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে একটি লাইসেন্স ইস্যু করতে যাচ্ছেন।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সৌদি আরব নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ও বিমান থেকে নিক্ষিপ্ত মারণাস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ যুদ্ধোপকরণ পাবে।

যার মূল্য আনুমানিক ৪৭৮ মিলিয়ন ডলার। লাইসেন্স ইস্যু হয়ে গেলেই মার্কিন অস্ত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রায়থিওন টেকনোলজিস করপোরেশন সরাসরি সৌদি আরবকে এসব অস্ত্র বিক্রি করতে পারবে বলে ব্ল–্নমবার্গ জানায়। এদিকে, ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, চুক্তি অনুসারে সৌদিতেই ওই অস্ত্র বানানো হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য