সিলেটে পাথর কোয়ারি খোলার আন্দোলন, আসছে চূড়ান্ত কর্মসূচি!

সিলেটের সকল পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে সিলেট বিভাগে আহুত ৭২ ঘন্টার গণ ও পণ্য পরিবহণ ধর্মঘট ৬০ ঘন্টা পর শিথিল করা হয়েছে।

যদিও ধর্মঘটটি শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও খৃষ্টান ধর্মের বড়দিন ও মাজার জিয়ারতে আসা হাজারো লোকজন এবং ভ্রমন পিপাষু মানুষদের যাতায়াতে মানবিক দিক বিবেচনা করে উক্ত ধর্মঘট শিথিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক গোলাম হাদী ছয়ফুল।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বরস্থ সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে বিভাগীয় মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে সাথে বৈঠক করেন ধর্মঘট মিথিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে  জানানো হয়। ফলে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সিলেটের সকল উপজেলা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে সকল প্রকার গাড়ি চলাচল শুরু হয়।

জরুরি সভায় উপস্থিত সাংবাদিক ও বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে বেলা কর্তৃক অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব ও মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক কোয়ারী খুলে দেওয়ার নির্দেশের আদেশ ও ব্যাখ্যা সবার কাছে উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট আইনজীবি ও সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট তাজ উদ্দিন।

মালিক-শ্রমিকদের জরুরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ও সিন্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করেন বাংলাদেশ সড়ক শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি, সিলেট বিভাগীয় সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিক, সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক গোলাম হাদী ছয়ফুল, সদস্য সচিব শ্রী আবু সরকার, সিলেট জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জিয়াউল কবির পলাশ, সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-ট্যাংকলরি ও কার্ভাডভ্যান শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমির উদ্দিন, সিলেট বিভাগীয় ট্রাক মালিক ঐক্য পরিষদ ও সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক শাব্বীর আহমদ ফয়েজ, বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মোঃ নুরুল আমিন, সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরি সভাপতি আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, সিলেট জেলা বাস মিনিবাস, মাইক্রেবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (১৪১৮) সহ সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ সামছুল ইসলাম মানিক, কোম্পানীগঞ্জ পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বাবুল, সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জিক লিটু, প্রচার সম্পাদক নুর আহমদ খান সাদেক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সোহরাব আলী, নির্বাহী সদস্য আকমাম আব্দুল্লাহ, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের দক্ষিণ সুরমা-মোগলাবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি কাউছার আহমদ প্রমুখ।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনে আইনগত কোনো বাধা নেই। মহামান্য হাইকোর্ট ভোলাগঞ্জ ও বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলনের আদেশ রয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসন পাথর উত্তোলনে বাঁধা দিচ্ছেন। যা সম্পূর্ণ আদালতের নির্দেশ বিরোধী।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সিলেট বিভাগীয় মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দদের সাথে বৈঠক করে আগামী দিনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য