আবরার হত্যা মামলায় আদালত স্থানান্তরের আবেদন খারিজ

বিচারিক আদালতের পরিবর্তন চেয়ে আলোচিত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার ২২ আসামির করা আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দেন। এর ফলে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণে আর কোনো বাধা নেই। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

এর আগে ৩ ডিসেম্বর নিরপেক্ষ বিচার নিয়ে আশঙ্কা থাকায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের প্রতি অনাস্থা জানান আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এই আদালতে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অনাস্থা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বেআইনিভাবে মামলার সাক্ষীদের পুনরায় আদালতে ডেকে জবানবন্দি নেয়া হয়েছে।  এতে নিরপেক্ষ বিচার নিয়ে আসামিদের ন্যায়বিচারের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন কারাগারে আটক ২২ আসামির আইনজীবী।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নেয় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন ৭ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।  নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (থ্রিপল-ই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।  শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন তিনি।

ওই ঘটনায় নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান।

অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারনামীয় ১৯ জন এবং তদন্তে প্রাপ্ত এজাহারবহির্ভূত ৬ জন রয়েছেন।  মামলার ৩ আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য