আখক্ষেতে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ চাষীদের

গাইবান্ধার কৃষিভিত্তিক একমাত্র ভারি শিল্প-কারখানা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি চিনিকলে আখ মাড়াই বন্ধ রাখার প্রতিবাদে আখক্ষেতে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ করেছেন আখচাষীরা।

শনিবার মহিমাগঞ্জে ব্যাপক বিক্ষোভ ও আখক্ষেতে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ করেছেন শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষীরা। প্রতিবাদ সমাবেশের পর তারা চিনিকল গেটে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলের সামনে গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে থাকেন বিক্ষুব্ধরা।

এ সময় ওই পথে চলাচলকারী ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহন আটকে পড়ে। বেলা ১২টা পর অবরোধ তুলে নিয়ে রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, আখচাষী সমিতি, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে লিখিত বক্তব্যে নেতারা জানান, ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। এর সঙ্গে ২৪ ডিসেম্বর মহিমাগঞ্জ এলাকায় অর্ধদিবস হরতালও পালন করা হবে।

এর মধ্যে দাবি মানা না হলে আগামী ২৫ ডিসেম্বর থেকে হরতাল, রাজপথ-রেলপথ অবরোধ, গণঅনশন ও চিনিকলের আওতাধীন সব জমির দণ্ডায়মান আখ আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন মিলস গেট সাবজোনের গোপালপুর গ্রামের জিল্লুর রহমান নামের এক আখচাষী বেলা ১টার সময় তার এক একর জমির আখে আগুন লাগিয়ে দেন। সংবাদ পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার একদল পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

পরে গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সোনাতলা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিক্ষুব্ধ আখচাষী জিল্লুর রহমান বলেন, রংপুর চিনিকলের চেয়ে ছোট জয়পুরহাট চিনিকলে আখ দিতে গেলে তাদের জমিতেই আখ শুকিয়ে যাবে। ছয় মাসেও তারা আখ মাড়াই করতে পারবে না। এর ফলে ধানের আবাদও করা সম্ভব হবে না। তাই এ আখ পুড়িয়ে দিলে আগামী বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ করা যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য