বড়লেখায় ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজন জেলহাজতে

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেনকে ছুরিকাঘাতের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে উভয় পক্ষের ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ১৬০ জনকে আসামি করে এই মামলা করেন। 

এ ঘটনায় রাতেই পুলিশ এজাহারনামীয় আসামি বড়লেখা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম ফরহাদ এবং রেহান আহমদকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে পৌরসভার পাখিয়ালা এলাকায় নৌকার প্রার্থীর পক্ষে একটি মিছিল করা হয়। এদিকে মিছিল শেষে এলাকার নেতা-কর্মীদের না জানিয়ে পাখিয়ালায় মিছিল করায় মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান হোসেনের ওপর হামলা ও তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এদিকে ছাত্রলীগ সভাপতির ওপর হামলা খবর জানাজানি হলে রাত সাড়ে আটটার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাখিয়ালা এলাকায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। দফায় দফায় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ২৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। সংঘর্ষে বড়লেখা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামাদ আহমদসহ উভয়পক্ষে অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন।

আহত হয়েছেন পুলিশের পাঁচ সদস্য। আহত পুলিশ সদস্যরা হচ্ছেন বড়লেখা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম, এসআই সুব্রত কুমার দাস, এএসআই আব্দুল হালিম, কনস্টেবল তুহেল ও মেহেদী। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

বড়লেখা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে রফিকুল ইসলাম সুন্দরের কয়েকজন ভাতিজা আমাদের পথ আগলে বলেন, পাখিয়ালা এলাকায় নৌকার মিছিল দিতে হলে তাদের সঙ্গে কথা বলে দিতে হবে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা আমার ওপর চড়াও হন। ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। এতে আমার হাত কেটে যায়।’

বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দরের ভাতিজা ছাত্রলীগ নেতা শিমুল আহমদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ সভাপতির ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটির বিরোধ নিয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে। নির্বাচনী মিছিল নিয়ে কিছু হয়নি। আমি তখন নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত ছিলাম।’

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সর্দার সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ২৪ রাউন্ড ফাঁক গুলি করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম আল ইমরান, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। দুপুর দুটা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকে। পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।’

এ বিভাগের অন্যান্য