মাধবপুরে স্কুলছাত্রী ‘অপহরণ’: মামলা নিচ্ছেনা পুলিশ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণের ৬দিন পর ফিরিয়ে দেয়া হলেও মামলা নিচ্ছে না পুলিশ।  সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় অপহরণকারী যুবকের স্বজনরা অপহৃত ছাত্রীকে মাধবপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

স্কুলছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, গত ৭ ডিসেম্বর উপজেলার মাল্লা গ্রামে ৯ম শ্রেণির ছাত্রীকে (১৫) একই গ্রামের সানু মিয়া নামে এক যুবক অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় অপহৃতার পিতা মামলা দায়ের করতে চাইলে মাধবপুর থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। এক পর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রামের সালিশ ব্যক্তিত্বরা বিষয়টি সমাধানের জন্য স্কুলছাত্রীর বাড়িতে আসেন। মেয়ের ভবিষতের কথা চিন্তা করে মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা সমাধানের বিষয়ে রাজি হন। কিন্তু সমাধানের পরিবর্তে গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার রাত ৮টার দিকে অপহরণকারী সানু মিয়ার পরিবারের লোকজন স্কুলছাত্রীর বাড়িতে এসে হামলা-ভাংচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা স্কুলছাত্রীর পরিবারের ৮ সদস্যকে কুপিয়ে জখম করে।

পরে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আধুনিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় রবিবার (১৩ ডিসেম্বর) আবারও মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। এক পর্যায়ে পুলিশ অপহরণকারী সানু মিয়ার পরিবারের লোকজনকে চাপ দিলে তারা অপহৃত স্কুলছাত্রীকে থানায় হাজির করেন।

এদিকে, এত ঘটনার পরও পুলিশ মামলা না নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে বিষয়টি প্রেমঘটিত, এখানে অপহরণের কোন ঘটনা ঘটেনি।

এ ব্যাপারে মাধবপুর থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘মেয়েটিকে অপহরণ করা হয়নি। প্রেমের টানে দুজনে পালিয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে মেয়েটি আমাদের জিম্মায় রয়েছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সমাধান না হলে মামলা হবে’।

প্রাপ্ত বয়স না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের একটি রোলিং আছে পরিবারের পক্ষ থেকে চাইলে ১৫ প্লাস হলেই বিয়ে দেয়া সম্ভব।’

তবে এ ব্যাপারে দ্বিমত জানালেন আইনজীবি এমএ মজিদ। তিনি বলেন, ‘প্রেমঘটিত কোন কারণে যদি মেয়ে গর্ভবতি হয় তাহলে বিশেষ বিবেচনায় বিয়ে দেয়া যায়। অন্যতায় তাদেরকে বিয়ে দেয়া সম্পূর্ণ বেইনি। এ ক্ষেত্রে মেয়ের মা-বাবা যা ব্যবস্থা নিতে চাইবেন তাই হবে। অর্থাৎ অপহরণ বা ধর্ষণ মামলা করতে পারবেন।’

এদিকে, সমাধানের বিষয়ে দ্বিমত স্কুলছাত্রীর পরিবারেরও। তাদের দাবি, পুলিশ মামলা না নিলে তারা আদালতে মামলা করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য