রাজশাহীতে ট্রাফিক কনস্টেবলকে রাইফেল দিয়ে মারপিটের অভিযোগ

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের রিয়াজ হাসান (৩৫) নামের এক কনস্টেবলকে রাইফেল দিয়ে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যরা বুধবার সন্ধ্যায় রাজশাহী রেলস্টেশনে স্ত্রী এবং স্বজনদের সামনে রিয়াজকে মারধর করেন।

এসময় স্টেশনে অবস্থানরত শত শত মানুষের সামনে তাকে মারধরের পাশাপাশি অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

হামলার শিকার কনস্টেবল রিয়াজ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

রিয়াজকে মারধরের সময় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য পুলিশ বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে প্যান্টের জিপার খুলে স্টেশনে জনসম্মুখে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ট্রাফিক কনস্টেবল রিয়াজ বৃহস্পতিবার রাতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ৪ সদস্যের নাম উল্লেখসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় রাজশাহীতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে চলছে তোলপাড়।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- আরএনবির নায়েক কাইয়ুম আলী, সিপাহী শাহিন আলম, মিজানুর রহমান ও বেলাল হোসেন। এছাড়া আরও একজন অজ্ঞাত আসামি রয়েছে।

রাজশাহী রেলওয়ে থানার ওসি শাহ কামাল বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস নামের একটি ট্রেনে কনস্টেবল রিয়াজের পাঁচজন নিকটাত্মীয় রাজশাহী আসেন। এসময় কনস্টেবল রিয়াজ এবং তার স্ত্রী তাদের স্টেশন থেকে আনতে গিয়েছিলেন। প্ল্যাটফর্ম থেকে ঘুরে আসার পথে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছে টিকিট দেখতে চান। তখন পাঁচ যাত্রীর টিকিট দেখানো হয়। কিন্তু কনস্টেবল ও তার স্ত্রীর টিকিট না থাকার কারণে তাদের ধরে টিকিট কালেক্টরের (টিসি) কাছে নিয়ে যান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তখন কনস্টেবল রিয়াজ নিজের পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি এবং তার স্ত্রী ট্রেনের যাত্রী ছিলেন না। তারা স্বজনদের নিতে এসেছিলেন।

এ কথা শোনার পর টিসি তাদের ছেড়ে দেন। কিন্তু টিসির কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর পরই আরএনবির সদস্যরা পুলিশের ওই কনস্টেবলকে মারধর শুরু করেন। তাকে রাইফেল দিয়ে স্ত্রী এবং নিকটাত্মীয়সহ শত শত মানুষের সামনে পেটানো হয়।

এসময় টেনেহিঁচড়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। একপর্যায়ে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য প্যান্টের জিপার খুলে পুলিশ বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন।

পরে রেলওয়ে পুলিশ এবং অন্য যাত্রীরা রিয়াজকে উদ্ধার করেন। সেখান থেকে তাকে রেলওয়ে থানা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কনস্টেবল রিয়াজকে আহত অবস্থায় রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।

কনস্টেবল রিয়াজ যুগান্তরকে বলেন, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের কাজ টিকিট চেক করা নয়। তারা রেলওয়ের সম্পদ রক্ষা করবেন। তারপরও টিকিটকে কেন্দ্র করে তারা আমাকে রাইফেল দিয়ে শত শত মানুষের সামনে পিটিয়েছেন। পুলিশ বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে গালাগাল করেছেন। তাদের হামলায় আমরা শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে- জানতে পশ্চিম রেলওয়ের চিফ কমাড্যান্ট আসাবুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে এ ব্যাপারে রাজশাহী রেলওয়ে থানার ওসি শাহ কামাল বলেন, মামলা হলেও এখনও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা যায়নি। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য