যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ জনপদে ভয়ংকর করোনা

করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সারিতে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির গ্রাম-শহর সব জায়গাতেই করোনার থাবা তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সুবিধা কম, সেখানে করোনা ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে।

এক্ষেত্রে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গ্রামীণ এলাকার চিত্র বেশি ভয়ংকর। এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের টিকার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা আগামী সপ্তাহে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস মিলার ও শীর্ষ জেনারেলদের দেয়া হবে বলে বুধবার পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস, এএফপি।

টেক্সাসে নতুন করে করোনার ঢেউ জোরাল হচ্ছে। এর মধ্যে এলপাসো থেকে লুবক পর্যন্ত হাসপাতালগুলো রোগীতে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। বিগ বেন্ড এলাকা করোনা মোকাবেলায় বেশি হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে ১২ হাজার স্কয়ার মাইলের মধ্যে মাত্র একটি হাসপাতাল আছে। বিগ বেন্ড রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টার।

তাতে বেড সংখ্যা ২৫টি এবং করোনা ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে একটি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- করোনা পরীক্ষার জন্য এখানে গাড়ি ও রোগীর দীর্ঘ লাইন নেই। পরীক্ষার জন্য নমুনা দেয়ার মতো তাড়াহুড়ো নেই সিভিএস স্টোরেও। এমনকি দৈনন্দিন করোনা পরীক্ষার জন্য কাউন্টি হেলথ বিভাগের কোনো উদ্যোগ নেই।

এছাড়া ১০০ মাইল এলাকার মধ্যে ওষুধের খুচরা অনলাইন দোকান সিভিএসের কোনো শাখাও নেই।

দু-চারটা ক্লিনিকে সামান্য পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে তাতে যাদের পক্ষে অনেক চেষ্টার পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া সম্ভব, তারা পরীক্ষা করাতে পারে।

দেড় কোটির বেশি আক্রান্ত ও ২ লাখ ৯০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ নেয়া বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ও প্রভাবশালী দেশটির গ্রামীণ এলাকায় করোনা নিয়ে এমন অবহেলাকর পরিস্থিতি হতাশার। এ কারণে করোনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।

আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার রেকর্ডে দিনকে দিন নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তাও যেই বিগ বেন্ডের কথা বলা হচ্ছে সেটি গত সপ্তাহে আমেরিকায় করোনা আক্রান্তের হারে শীর্ষ ২০-এ রয়েছে। এটি অন্যান্য গ্রামীণ এলাকার পরিস্থিতির একটি উদাহরণ বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিগ বেন্ডের প্রেসিডিও কাউন্টির হেলথ কর্তৃপক্ষের ডা. জেপি শোয়ারটজ বলেন, ‘আমাদের এখানে কোনো নিউরোলজিস্ট নেই। কোনো দীর্ঘমেয়াদি কেয়ার স্পেশালিস্ট নেই। এমনকি রোগীদের সহায়তার জন্য আমাদের কোনো হেলপ নেই। এমনকি নেই কোনো নার্সিং হোমও।’

রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তালিকা দীর্ঘ শীর্ষস্তরে হলেও পরিস্থিতি পরিবর্তনে নিজেরা কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা। তারা বলেন, রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোটের নেয়া উদ্যোগের বাইরে তাদের কিছু করার নেই।

এমনকি বিচারকের কিছু করার নেই বলে জানাচ্ছে ব্রেউস্টার কাউন্টির জাজ এলিজার আর কানো। তিনি বলেন, ‘আমার হাত বাঁধা। আমাকে আদেশ করা হয়েছে গভর্নরের পদক্ষেপবিরোধী হতে পারে এমন ঘরে অবস্থা বা অন্য কোনো বিধিনিষেধ ঘোষণা না করার জন্য। এটি অসহায়, হতাশাজনক ও ভয় ছড়িয়ে দেয়ার মতো পরিস্থিতি।’

এটি রিপাবলিকান গোঁয়ারদের করোনাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার একটি নজির। যেমনটি ট্রাম্প প্রথম থেকেই করে আসছেন। এভাবে উদ্দেশ্যমূলক ও চিকিৎসা সুবিধা না থাকার কারণে গ্রামীণ আমেরিকার করোনা রোগীর অবস্থা নাজুক। প্রয়োজনের ক্ষেত্রে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে তাদের যেতে হয় চিকিৎসার জন্য।

এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী ডেভিড নরকুয়েস্ট, জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান মার্ক মিল্লি, ভাইস চেয়ারম্যান জন হেইতেনসহ জ্যেষ্ঠদের দেয়া হবে করোনার টিকা। পেন্টাগনকে প্রাথমিকভাবে পাইজারের টিকার ৪৪ হাজার ডোজ দেয়া হবে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ফাইজারের টিকা মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে।

জনসম্মুখে টিকা নেবেন জাতিসংঘ প্রধান : জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জনসম্মুখে করোনা টিকা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

বুধবার এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, করোনা টিকা সহজলভ্য হলে জনসম্মুখেই তিনি টিকা গ্রহণ করতে চান। বিশ্বের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি এ টিকা গ্রহণ করবেন বলেও জানান।

৭১ বছর বয়সী এই জাতিসংঘ প্রধানের কাছে এক সংবাদ সম্মেলনে টিকা সহজলভ্য হলে তিনি জনসম্মুখে সেটি গ্রহণ করবেন কিনা সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, টিকা সহজলভ্য হলে অবশ্যই তা গ্রহণ করবেন।

তিনি বলেন, টিকা নেয়া একটা সেবা তাই আমি প্রত্যেককেই এটি নেয়ার বিষয়ে উৎসাহ দিচ্ছি। আমাদের মধ্যে একজন টিকা নেয়ার মানে হচ্ছে পুরো কমিউনিটিতে তিনি আর সংক্রমণ ছড়াচ্ছেন না। অবশ্যই এটা আমাদের কমিউনিটির জন্য একটি সেবা। গুতেরেস বলেন, তাই ভ্যাকসিন নেয়াটা সবার প্রতি আমার দায়বদ্ধতা।

এ বিভাগের অন্যান্য