জাফলংয়ে ফটোগ্রাফার উজ্জল হত্যা: আসামিদের স্বীকারোক্তি

দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে ফটোগ্রাফার উজ্জল হত্যার দ্বায় স্বীকার করেছে ধৃত আসামিরা। আজ সোমবার সিলেটের সিনিয়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-২ এর বিচারক অঞ্জন কান্তি দাস এর আদালতে হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার দুই আসামি। তারা হলো-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের ধরমপুর গ্রামের সৈয়দ নূর’র পুত্র মো. এহসাম একরাম ( ১৯) ও  একই গ্রামের সুরুক মিয়ার পুত্র মো. খসরু মিয়া(১৮)।

গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফটোগ্রাফার উজ্জল’র মূল হত্যাকারী দুইজনকে আদালতে হাজির করলে আসামীরা স্বেচ্চায় হত্যার বর্ণনা দেয়। পরে বিচারক তাদেরকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। সেই সাথে তাদের সহযোগি ট্রাক চালক রায়হান আহমদ ও ট্রাকের হেল্পার ওলিউর রহমানকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন আদালত।

উল্লেখ্য, রোববার (৬ডিসেম্বর) সকালে পর্যটকদের ছবি তুলতে জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকায় যায় ফটোগ্রাফার উজ্জল। বেলা আড়াইটার দিকে পর্যটক বেশে আসা একরাম ও খসরু ছবি উঠাবে বলে জিরো পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে উজ্জলের সাথে চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ি ছবি উঠানোর কথা বলে উজ্জলকে নিয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে মায়াবী ঝর্ণার দিকে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে সুযোগ বুঝে পর্যটক বেশে থাকা একরাম ও খসরু ফটোগ্রাফার উজ্জলকে এলাপাতাড়িভাবে ছুরিকাঘাত করে তার ক্যামেরা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। এরপর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যার ৪ ঘণ্টার মাথায় গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় জড়িত মো. এহসাম একরাম ও মো. খসরু মিয়াকে গেফতার করে পুলিশ। এসময় তারা ট্রাকে করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাক চালক রায়হান আহমদ ও ট্রাকের হেল্পার ওলিউর রহমানকেও গ্রেফতার করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য