কাফরুলে নারীকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা: সৎ ছেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

মিরপুরের কাফরুলে সীমা বেগম নামে এক নারীকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তার সৎ ছেলে এসএম আশিকুর রহমান নাহিদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

সোমবার মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসীর খাস কামরায় স্বীকারোক্তিমূলক এ জবানবন্দি দেয় নাহিদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপকশিনার জাফর হোসেন।

হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এ মামলায় গ্রেফতার নাহিদের স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা আইরিন, আইরিনের বাবা আশেক উল্লাহ, ভাই শাকিব, মামা নাসির উদ্দিন ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জবানবন্দি রেকর্ড করার পর নাহিদকেও কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে রোববার রাতে ঢাকার উত্তরা ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার তাদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার এসআই সারিফুজ্জামান।

রোববার দুপুরে কাফরুলের বাইশটেকি ইমামনগর এলাকার একটি ভবনের সপ্তম তলার ফ্ল্যাট থেকে সীমার (৩৩) দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে পোড়া ক্ষত ছাড়াও জখমের চিহ্ন ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, সীমার স্বামীর নাম মো. শাজাহান। সীমা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। সীমারও এটি দ্বিতীয় বিয়ে।

সীমার ভাই হেলাল শরিফ রোববারই কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

কাফরুল থানার এসআই আবুবকর জানান, আট মাস আগে সীমা ও শাজাহানের বিয়ে হয়। কাফরুলের ওই ফ্ল্যাটে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন সীমা। তার শরীরের পেছনের দিকটা পোড়ানো, পিঠে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পারিবারিক বিরোধেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রতিবেশীরা পুলিশকে জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, সীমা আক্তারের লাশ বিছানায় উপুড় অবস্থায় পড়েছিল। তার পিঠে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের পেছনে দিকে পোড়া ছিল। মৃতদেহের পাশেই একটি লুঙ্গি ছিল। কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার আগে তাকে গলায় লুঙ্গি বেঁধে শ্বাসরোধ করা হয়ে থাকতে পারে বলেও ধারণা তাদের।

এ বিভাগের অন্যান্য