বিকাশ প্রতারকের সঙ্গে প্রেম জমিয়ে টাকা উদ্ধার কলেজছাত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট ,

 

বিকাশে প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন রাজশাহীর এক কলেজছাত্রী। প্রতারকরা কৌশলে তার বিকাশ হিসাব নম্বর থেকে হাতিয়ে নিয়েছিল ৫১ হাজার টাকা। পরে পুলিশের পরামর্শে তিনি ওই প্রতারকের সঙ্গেই শুরু করেন প্রেমের আলাপ।

প্রেম জমে উঠলে ওই প্রতারক কলেজছাত্রীর সঙ্গে দেখা করতে সুদূর ফরিদপুর থেকে চলে আসে রাজশাহীতে। আর তখনই এক সহযোগীসহ ওই প্রতারককে আটক করে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

গ্রেফতারকৃত প্রতারকরা হল- ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার জাঙ্গালপাশা মধ্যপাড়া গ্রামের আবদুল খানের ছেলে হাসান খান (২০) এবং জাঙ্গালপাশা পূর্বপাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে মাহমুদ হাসান ওরফে বায়েজিদ (২১)।

পুলিশ বলছে, তারা পেশাদার প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। দেশব্যাপী এই চক্র বিকাশে প্রতারণা করে থাকে। কল দিয়ে তারা কৌশলে গ্রাহকের বিকাশের পিন নম্বর হাতিয়ে নেয়। এরপর সরিয়ে ফেলে বিকাশের টাকা। এমন প্রতারণার বহু ঘটনা রাজশাহীর বিভিন্ন থানাতেই নথিভুক্ত আছে।

আরএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার আবু আহাম্মদ আল মামুন জানান, প্রেমের ফাঁদে ফেলা কলেজছাত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এলে রোববার বিকালে রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর মোড় থেকে এদের আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার ৭৬ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত ১৬ নভেম্বর ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোনে অচেনা একটি নম্বর থেকে কল আসে। ওই ব্যক্তি ছিল প্রতারক হাসান। তবে সে নিজেকে ওই শিক্ষার্থীর কলেজের শিক্ষক পরিচয় দেয়। সে বলে- করোনাকালে বিকাশের মাধ্যমে সরকার শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছে। কিন্তু যে নম্বরে বৃত্তি পাঠানো হবে সেই বিকাশে অন্তত ৫০ হাজার টাকা থাকতে হবে। তাহলেই ওই নম্বরে সরকার টাকা পাঠাবে।

বিষয়টি বুঝতে না পেরে ওই শিক্ষার্থী তার অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা তোলেন। আর তার বিকাশে আগে থেকেই কিছু টাকা ছিল। ওই ছাত্রী বিকাশে টাকা তোলার পর প্রতারক হাসান কৌশলে তার পিন নম্বরটি জেনে নেয়। এরপর সে ওই ছাত্রীর বিকাশ থেকে ৫১ হাজার টাকা সরিয়ে নেয়। পরে প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে ওই ছাত্রী ডিবি পুলিশের শরণাপন্ন হন।

আরএমপির ডিসি ডিবি আরও বলেন, সবকিছু শোনার পর আমরা ওই ছাত্রীকে পরামর্শ দেই যে, অন্য একটি নম্বর থেকে ওই প্রতারকের সঙ্গে তুমি কথাবার্তা শুরু কর। যেহেতু আগে খুব বেশি কথা হয়নি, সে হয়ত বুঝতে পারবে না। এ কৌশলটাই কাজে দিয়েছে। পরদিন থেকেই মেয়েটি অন্য একটি নম্বর থেকে তার সঙ্গে কথা শুরু করে।

তিনি বলেন, প্রতারক মেয়েটিকে চিনতে পারেনি। মেয়েটির চেয়ে প্রতারকই বেশি কথা বলতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে সে রাজিও হয়ে যায়। তারপর প্রেমের অভিনয় করতে থাকে এবং এসবের আপডেট আমাদের জানাতে থাকে। এই ১২ দিনেই প্রেম জমে ওঠে।

জানা যায়, পুলিশের পরামর্শে ওই ছাত্রী প্রতারককে দেখা করার জন্য রাজশাহীতে ডাকে। এই ডাকে সাড়া দিয়ে হাসান তার সহযোগী আরেক প্রতারককে নিয়ে রোববার রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে আসে। সাদা পোশাকে এখানে আগে থেকেই ওতপেতে ছিলেন ডিবি পুলিশের সদস্যরা। ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে দেখা হলেই তারা দুই প্রতারককে ধরে ফেলেন।

আবু আহাম্মদ আল  মামুন আরও জানান, আটকের সময় দুইজনের কাছে মোট ৭৬ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। এদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা নগরীর রাজপাড়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেছেন। এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য