ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে নতুন দাবি সৌদি-ইসরাইলের

ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে একই সুরে-তালে কথা বলছে ইসরাইল ও সৌদি আরব। তেহরানের সঙ্গে আগের পরমাণু সমঝোতা বাদ দিয়ে নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষরের দাবি জানিয়েছে দেশ দুটির কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত সৌদির স্থায়ী প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল-মুয়াল্লেমি বলেছেন, ‘ইরান পরমাণু সমঝোতা মরে গেছে’।

তিনি আরও বলেন, বাইডেনকে ইরানের সঙ্গে নয়া চুক্তি সই করতে হবে।

একই দাবি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুরও। তিনি বলেছেন, নতুন করে ইরান পরমাণু চুক্তিতে ফেরা ওয়াশিংটনের উচিৎ হবে না। খবর রয়টার্স ও এএফপির।

রোববার এক বক্তব্যে সৌদি পাররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আলে সৌদ ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি সমর্থন করেছেন।

তিনি তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তিতে রিয়াদকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।

একইদিনে নেতানিয়াহু বলেন, দুই বছর আগে প্রত্যাহার করা চুক্তিটিতে ওয়াশিংটনের আরও ফেরা উচিত হবে না। ইরান যেন পরমাণু অস্ত্র বানাতে না পারে, তা নিশ্চিতে আমাদের অবশ্যই আপোসহীন নীতিতে অটল থাকতে হবে।’

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানার শর্তে তাদের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্য দেশ ও জার্মানি।

তিন বছর পর, ২০১৮ সালে ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন। এরপর তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে শুরু করে যা এখনও চলছে।

ওয়াশিংটন দাবি করছে, তারা ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি সই করতে চায় যাতে আমেরিকার কাঙ্ক্ষিত সবগুলো বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

ট্রাম্প প্রশাসন এমন সময় এ দাবি করছে যখন তারা আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে এর আগের চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে। কাজেই আবার চুক্তি সই করলে তা থেকেও যে ওয়াশিংটন আবার বেরিয়ে যাবে না তার কোনো গ্যারান্টি নেই।

ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী এই পদক্ষেপের প্রতি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইসরাইল ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশ সমর্থন জানায়নি; বরং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।

আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে যাওয়া বাইডেন এর আগে তেহরান চুক্তিতে দেয়া সব শর্ত কঠোরভাবে মেনে চললে ইরান পরমাণু চুক্তিতে ফেরার আগ্রহ দেখিয়েছেন।

চুক্তিটি ‘শক্তিশালী ও বিস্তৃত করতে এবং ইরানের অন্যান্য অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে’ পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে কাজ করারও ইচ্ছা আছে এ ডেমোক্র্যাট নেতার।

এ ব্যাপারে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছে তেহরানও। কিন্তু স্পষ্টতই তার এই নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সৌদি ও ইসরাইল।

এ বিভাগের অন্যান্য