রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে সুপার ওভারে জিতে ফাইনালে করাচি

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রথম কোয়ালিফায়ারে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে সুপার ওভারের জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন করাচি কিংস। তবে হেরে গেলেও সমস্যা নেই মুলতান সুলতান্সের। শহীদ আফ্রিদিদের সামনে আরও একটি সুযোগ রয়েছে। রোববার দ্বিতীয় এলিমিনেটর ম্যাচে জিতলে ফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে মুলতান।

শনিবার করাচির জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক বাবর আজম।  আগে ব্যাটিং করতে নেমে সময়ের ব্যবধানে উইকেট হারায় মুলতান সুলতান্স। তবে শেষদিকে পেস বোলার সোহেল তানভিরের ব্যাটিং তাণ্ডবে ৭ উইকেটে ১৪১ রান তুলতে সক্ষম হয় মুলতান। মাত্র ১৩ বলে দুই ছক্কা ও এক চারের সাহায্যে অপরাজিত ২৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন সোহেল তানভির। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন মুলতানের ইংলিশ ব্যাটসম্যান রবি বোপারা।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় করাচি কিংস। দলীয় ১৯ রানে ফেরেন ওপেনার শারজিল খান। তিনে ব্যাটিংয়ে নামা ইংলিশ তারকা ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স হেলসকে সঙ্গে নিয়ে ৪২ রানের জুটি গড়েন অন্য ওপেনার বাবর আজম। দলীয় ৬১ রানে ফেরেন হেলস (২২)। এরপর ২৯ রানের ব্যবধানে ফেরেন ইফতেখার আহমেদ (১৩)।

জয়ের জন্য শেষ ২৪ বলে করাচি কিংসের প্রয়োজন ছিল মাত্র ২৬ রান। ১৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসে দুর্দান্ত বোলিং করেন সোহেল তানভির। ওই ওভারে মাত্র ৩ রানে বাবর আজম ও চাদউইক ওয়াল্টনের উইকেট তুলে নিলে বিপদে পড়ে যায় করাচি। ৫৩ বলে ৫টি চার ও দুই ছক্কায় ৬৫ রান করে আউট হন বাবর আজম।

১৮তম ওভারে ইমরান তাহির চার রান খরচায় ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান শেরফানি রাদারফোর্ডের উইকেট তুলে নিলে পরাজয়ের দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় করাচি। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য বাবর আজমদের প্রয়োজন ছিল ১৯ রান।

১৯তম ওভারে সোহেল তানভিরের বলে এক চার ও এক ছক্কা হাঁকিয়ে ১২ রান আদায় করে নেন ইমাদ ওয়াসিম। শেষ ওভারে করাচির প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭ রান।

মোহাম্মদ ইলিয়াসের করা ওভারের প্রথম বল ডট দিয়ে দ্বিতীয় বলে আউট হন মোহাম্মদ আমির। তৃতীয় ও চতুর্থ বলে দুই সিঙ্গেল নেন ওয়াকাস মাকসুদ ও ইমাদ ওয়াসিম। পঞ্চম বলে ডট দেন ইলিয়াস। শেষ বলে জয়ের জন্য করাচির প্রয়োজন ছিল ৫ রান। শেষ বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচ টাই করেন ইমাদ ওয়াসিম।

ম্যাচ টাই হওয়ায় খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। সুপার ওভারে আগে ব্যাট করে করাচি। সোহেল তানভিরের করা প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন শারজিল খান। পরের বল ওয়াইড, দ্বিতীয় বলে সিঙ্গিল নেন রাদারফোর্ড। তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন শারজিল। চতুর্থ ও পঞ্চম বলে বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি হাঁকান রাদারফোর্ড। শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

সুপার ওভারে ১৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নামেন মুলতান সুলতান্সের দুই বিদেশি ওপেনার রাইলি রুশো ও রবি বোপারা। তারা মোহাম্মদ আমিরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে সুবিধা করতে পারেননি। মাত্র ৯ রান খরচ করেন আমিররা। ৪ রানের জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে করাচি কিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

মুলতান সুলতান্স: ২০ ওভারে ১৪১/৭ (রবি বোপারা ৪০, সোহেল তানভির ২৫*, জিসান আশরাফ ২১, খুশদিল শাহ ১৭, শহীদ আফ্রিদি ১২)।

করাচি কিংস: ২০ ওভারে ১৪১/৮ (বাবর আজম ৬৫, ইমাদ ওয়াসিম ২৭*, অ্যালেক্স হেলস ২২; সোহেল তানভির ৩/২৫)।

ফল: সুপার ওভারে করাচি কিংস জয়ী।

এ বিভাগের অন্যান্য