চলন্ত বাসে নারীকে ধর্ষণ

 

ডেস্ক রিপোর্ট ,

 

গাজীপুরে চলন্ত বাসে এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত ১টার দিকে কালিয়াকৈর থানার মৌচাক ভান্নারা থেকে কালিয়াকৈরের জামালপুরগামী রাস্তায় তাকওয়া পরিবহনের একটি বাসে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়।

এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানার পুলিশ একজনকে আটক এবং বাসটি জব্দ করেছে। এ ঘটনায় রোববার ওই নারী বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

জয়দেবপুর থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম মামলার বরাত দিয়ে জানান, বাসে ফেরি করে চকোলেট বিক্রেতা ওই নারী শনিবার রাত ৯টার দিকে কালিয়াকৈর থানাধীন চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ডে এলে তার পূর্ব পরিচিত পরিবহন শ্রমিক মো. শরীফ হোসেন (২০) ও সাদ্দাম হোসেন (২২) তাকে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তায় যাওয়ার কথা বলে তাকওয়া গাড়িতে তুলে।

বাসটি তাকে নিয়ে যাত্রীসহ গাজীপুর চৌরাস্তায় আসে। পুনরায় খালি বাসে করে তাকে নিয়ে কালিয়াকৈর থানার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ফ্লাইওভারের ওপর বাস থামিয়ে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। এতে সে রাজি না হলে তারা ওই নারীকে জাপটে ধরে টানাহেঁচড়া করে পরিহিত কাপড়চোপড় ছিঁড়ে ফেলে।

তার চিৎকারে আশপাশের লোকজনসহ টহল পুলিশ এগিয়ে আসতে থাকলে তারা ওই নারীর গায়ের ওড়না দিয়ে নাক-মুখ বেঁধে ফেলে। পরে চালক সাদ্দাম হোসেন বাস চালিয়ে চন্দ্রার দিকে যেতে থাকলে টহল পুলিশ বাস থামানোর জন্য সিগন্যাল দেয়। চালক বাস না থামিয়ে চন্দ্রার দিকে যেতে থাকলে পুলিশ পেছন দিক থেকে ধাওয়া করে।

একপর্যায়ে চালক সাদ্দাম হোসেন বাস চালিয়ে চন্দ্রা হতে ইউটার্ন নিয়ে কালিয়াকৈর থানাধীন মৌচাক এলাকায় এসে বাম দিকে ভান্নারাগামী রাস্তা দিয়ে কালিয়াকৈর থানাধীন জামালপুর আসার পথে রাত অনুমান ১টার দিকে বাসে থাকা আরেক চালক মো. শরীফ হোসেন তাকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে।

পরে বাসটি জয়দেবপুর থানার ভাওয়াল মির্জাপুর ও মাস্টারবাড়ি হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে ময়মনসিংহের দিকে যাওয়ার সময় শনিবার রাত সোয়া ২টার দিকে মেম্বারবাড়ি স্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছলে টহল পুলিশ বাস থামানোর জন্য সিগন্যাল দেয়। তারা সিগন্যাল অমান্য করে বাস চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ রাস্তা ব্যারিকেড দিয়া বাস থামায়।

এ সময় ধর্ষক মো. শরীফ হোসেন বাস থেকে কৌশলে নেমে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং বাসের চালক মো. সাদ্দাম হোসেনকে আটক ও বাসটি জব্দ করে।

জয়দেবপুর থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম জানান, আটক সাদ্দাম হোসেন শেরপুরের শ্রীবরদী থানার বাগাতা গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে। সে গাজীপুর মহানগরীর ইটাহাটা এলাকার আক্রাম মুন্সীর বাড়িতে ভাড়া থাকে। নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য