কারাবন্দিদের নাশতায় বৈচিত্র্য, বেড়েছে মান

 

ডেস্ক রিপোর্ট ,

 

সারা দেশের ১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগারসহ ৬৮টি কারাগারে বন্দিদের নাশতায় এসেছে বৈচিত্র্য। উন্নত হয়েছে নাশতার মান। ব্রিটিশ আমল থেকে কারাবন্দি কয়েদিরা সকালের নাশতায় পেতেন ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম আটায় তৈরি একটি রুটি এবং সামান্য গুড় (১৪ দশমিক ৫৮ গ্রাম)। হাজতিরা একই পরিমাণ গুড় পেলেও আটা পেতেন আরও কম (৮৭ দশমিক ৪৮ গ্রাম)। এর স্থলে কারাবন্দিরা এখন খিচুড়ি, রুটি-সবজি ও রুটি-হালুয়া খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া বিশেষ দিনেও তাদের জন্য বেড়েছে বরাদ্দ।

আগে দুই ঈদ, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে বন্দিদের বিশেষ খাবারের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩০ টাকা। এখন সেটা পাঁচগুণ বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫০ টাকা। তাছাড়া আদালতে নেয়া বন্দিদের জন্য আগে কোনো বরাদ্দ ছিল না। তাই অনেক ক্ষেত্রে কারাগার থেকে আদালত এবং আদালতে হাজিরা শেষে কারাগারে নেয়া পর্যন্ত দীর্ঘ সময় বন্দিদের না খেয়ে থাকতে হতো। কিন্তু এখন তাদের জন্য রবাদ্দ রয়েছে ২৬ টাকা। তবে দুপুর ও রাতের খাবারের মেন্যু আগের মতোই আছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

কারাগারে নাশতার মান বাড়ায় বন্দিরা বেশ খুশি। করোনা পরিস্থিতিতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছেন সাবেক ব্যাংকার দেওয়ান মো. ইসহাক। শিল্প ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত এজিএম কারাফটকে যুগান্তরকে বলেন, ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এক মামলায় ১১ অক্টোবর আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর টানা ২১ দিন তিনি কারা অন্তরীণ ছিলেন। কারা অভ্যন্তরের সার্বিক পরিস্থিতি বর্ণনা করে তিনি বলেন, ভেতরের অবস্থা খুবই ভালো। কারাগার সম্পর্কে আগে আমার অনেক নেতিবাচক ধারণা ছিল। কিন্তু ভেতরে যাওয়ার পর আমার সব নেতিবাচক ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

মাদক মামলায় দুই মাসের বেশি কারাবন্দি থাকার পর সম্প্রতি ছাড়া পেয়েছেন রামপুরার পনির হোসেন। তিনি  বলেন, কারাগার আর বাইরের জগৎ এক না। তবে একসময় কারাগারের নাম শুনলে যে দুঃসহ অবস্থার কথা মনে হতো, এখন সেটা নেই। এককথায় কারাগারের পরিবেশ এবং খাবারের মান বেশ ভালো। তিনি বলেন, কারাগারের ভেতরে মননচর্চা কেন্দ্রসহ নিজেকে সংশোধনের অনেক কিছু রয়েছে। আকারে অনেক বড় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর বিশাল খেলার মাঠ আছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কারাগারে কোনো বন্দি এলে শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। সুস্থ বন্দি হলেও বাধ্যতামূলক তাকে পৃথক সেলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়।

কারা সূত্র জানায়, সামান্য গুড় আর একটি রুটির পরিবর্তে কারাবন্দি কয়েদি ও হাজতিরা সকালের নাশতায় এখন সপ্তাহে দু’দিন খিচুড়ি, চারদিন রুটি-সবজি এবং একদিন রুটি-হালুয়া খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

জানা গেছে, সকালের নাশতা ও বিশেষ দিনের খাবারে বন্দিদের জন্য বাড়ানো এবং বৈচিত্র্য আনা হলেও দুপুর ও রাতের খাবার চলছে আগের মতোই। একজন কয়েদির দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য ব্যয় করা হচ্ছে ৫৮৩ দশমিক ২০ গ্রাম চাল, ১৪৫ দশমিক ৮০ গ্রাম মসুর ডাল, ৩২ দশমিক ৮০ গ্রাম লবণ, ২০ দশমিক ৫০ গ্রাম ভোজ্য তেল, চার দশমিক ৬১ গ্রাম পেঁয়াজ, দুই দশমিক শূন্য পাঁচ গ্রাম শুকনো মরিচ, এক দশমিক শূন্য দুই গ্রাম শুকনো হলুদ, শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ গ্রাম ধনিয়া, ২৯১ দশমিক ৬০ গ্রাম সবজি, ৩৬ দশমিক ৪৫ গ্রাম মাছ অথবা মাংস এবং ৭২৯ দশমিক ৬০ গ্রাম জ্বালানি কাঠ। হাজতির ক্ষেত্রে অন্য উপাদান সমপরিমাণ থাকলেও চালের পরিমাণ কিছুটা কম দেয়া হয়। তাদের জন্য দুপুর ও রাতের খাবারে চাল বরাদ্দ ৪৯৫ দশমিক ৭২ গ্রাম।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ চন্দ্র ঘোষ  বলেন, কারাগার খুবই স্পর্শকাতর স্থান। তাই কারাবন্দি ও কারা সংশ্লিষ্ট স্টাফ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই কারা অভ্যন্তরে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সুরক্ষা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গড়ে ১০ হাজার ৫০০ বন্দি থাকেন। এছাড়া স্টাফসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার লোক কারা কম্পাউন্ডে বসবাস করেন। করোনা পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবলম্বন করায় এখনও এখানে কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। তিনি বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের পর কারা কম্পাউন্ড থেকে কাউকে বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কারাগারের ২১ জন কারারক্ষীর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তারা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদেরও নতুন কারাগারের মহিলা জেলে আইসোলেশনে রাখা হয়। তারা সবাই এখন সুস্থ।

এ বিভাগের অন্যান্য