ছয়বার ট্রাকের নম্বরপ্লেট পরিবর্তনেও শেষ রক্ষা হল না

ছয়বার ট্রাকের নম্বরপ্লেট পরিবর্তন করেও শেষ রক্ষা হয়নি ডাকাত দলের। অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে ডাকাতরা। মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে ট্রাকসহ ৫ ডাকাতকে আটক করা হয়।

বুধবার আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এসব তথ্য জানান।

আটক ডাকাতরা হল- বড়াইগ্রাম উপজেলার কায়েমকোলা গ্রামের জামান মণ্ডলের ছেলে ফজলে রাব্বী, একই উপজেলার আহমেদপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার জান্টু প্রামাণিকের ছেলে ফরহাদ হোসেন ও আসাদ খাঁর ছেলে বিল্লাল হোসেন, কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার তালতলী গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে আব্দুল আওয়াল এবং ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার পাড়গ্রাম এলাকার মৃত ইয়াকুব মিস্ত্রির ছেলে বাবুল মিয়া।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি আনোয়ারুল হক জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার চট্টগ্রাম রোডের একটি চায়ের দোকানে বসে ট্রাকচালকের সহায়তায় গরু ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়। সেই মোতাবেক গত ১৮ জুলাই চালক দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার আমবাড়িয়া হাটে গিয়ে ট্রাকে গরুভর্তি করে।

পরে বগুড়ার তিনমাথার একটি হোটেলে খাবারের সময় ডাকাতরা পুনরায় চালকের সঙ্গে পরামর্শ করে। পরে ডাকাতরা ভিন্ন গাড়িতে বনপাড়া পাটোয়ারী ফিলিং স্টেশন এলাকায় এসে একটি আখের জমিতে ওতপেতে থাকে।

এদিকে পরিকল্পনামাফিক চালক ওই আখের জমির সামনে মহাসড়কে এসে ট্রাক বিকল হয়ে গেছে জানিয়ে গরুর ব্যাপারীদের নিচে নেমে ধাক্কা দিতে বলেন। এ সময় ব্যাপারীরা ট্রাক থেকে নামলে ওতপেতে থাকা ডাকাতরা আকস্মিক তাদের ওপর হামলা করে।

পরে আহত অবস্থায় তাদের আখের জমিতে ফেলে রেখে গরুর ট্রাক নিয়ে চলে যায়। এ সময় তারা ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক যেন শনাক্ত করা না যায় সেজন্য দিনাজপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত যেতে মোট ছয়বার নম্বরপ্লেট পরিবর্তন করে।

পরবর্তীতে উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের একটি টিম বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সামনে থেকে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাকসহ ওই আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় অবশিষ্ট পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে পুলিশ গরুগুলো এখনও উদ্ধার করতে পারেনি বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য