আর কবে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবেন ‘শতবর্ষী’ জলিল বিশ্বাস

পাবনার সুজানগরের আবদুল জলিল বিশ্বাস। নিজের হিসাবে বয়স শত বছরেরও বেশি। বয়সের ভারে শরীর এতটাই ন্যুব্জ যে, এখন ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। সবসময় লাঠিতে ভর করেই তাকে হাঁটতে হয়। কিন্তু অনেক চেষ্টা তদবির করেও তিনি একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড জোগাড় করতে পারেননি।

বৃদ্ধ জলিল বিশ্বাসের এখন একটিই প্রশ্ন- ‘কত বয়স হলে তিনি বয়স্ক ভাতার সেই কার্ড পাবেন।’

বৃদ্ধ আবদুল জলিল বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার বাড়ি সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বরখাপুর গ্রামে। এ গ্রামের মৃত তছির বিশ্বাসের সন্তান তিনি। আবদুল জলিল বিশ্বাসের ছয় ছেলে ও চার মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন অনেক আগেই। আর ছেলেদের মধ্যে একটি ছেলে প্রতিবন্ধী এবং অন্য ছেলেরাও যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তাই পিতাকে তারা ভরণ-পোষণ দেন না।

জাতীয় পরিচয়পত্রে দেয়া তথ্য অনুযায়ী জলিল বিশ্বাসের বর্তমান বয়স ৭৪ বছর। কিন্তু তিনি জানান, তার প্রকৃতপক্ষে বয়স হবে ১০৬ বছর।

বৃদ্ধ জলিল জানান, এত বয়সেও তাকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়া হয়নি। তার আক্ষেপ- আর কত বয়স হলে তিনি বয়স্ক ভাতা পাবেন।

আবদুল জলিল বিশ্বাসের স্ত্রী শুকজান নেছা (৭০) জানান, স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ওহাব শিকদার তার কাছ থেকে কয়েক বছর আগে ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে এক হাজার টাকা নিলেও কার্ড করে দেননি। এমনকি সেই টাকাও আর ফেরত দেননি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি সুবিধা পায় বড় লোকেরা, আমরা অভাবী মানুষ হওয়ার পরও আমাদের ভাগ্যে এখন পর্যন্ত জোটেনি কোনো সরকারি সুবিধা। তিনি সরকারের কাছে ভাতার কার্ডের দাবি জানান।

স্থানীয় ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মো. হারুন জানান, এই ওয়ার্ডে তার মতো এত বয়স্ক মানুষ আর নেই। তিনি পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি।

সুজানগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, প্রতি বছর উন্মুক্তভাবে ইউনিয়নে ইউনিয়নে গিয়ে বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য বয়স্ক ব্যক্তি বাছাই করা হয়। এবারে করোনাভাইরাসের কারণে সেটি না করে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের কাছ থেকে প্রার্থী বাছাই করে তালিকা চাওয়া হয়েছিল। সেই তালিকায় তার নাম দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রওশন আলী বলেন, এ রকম বয়স্ক লোক ভাতার আওতায় পড়েনি, এটা তার জানা ছিল না। তবে আবদুল জলিল বিশ্বাসের বয়স্ক ভাতার কার্ডের পাশাপাশি সরকারি অন্যান্য সহযোগিতার বিষয়েও উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য