আজারবাইজান-আর্মেনিয়া যুদ্ধে কী ভাবছে পাকিস্তান?

 

আর্মেনিয়াকে কঠোর সতর্ক করে বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে আজারবাইজানের পক্ষে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যুদ্ধ করছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেয়া খবরের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটি।

শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতীয় মিডিয়ার ওই খবর- ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন’।

আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের যুদ্ধে নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তান।

পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আজারবাইজানের নাগরিকদের ওপর আর্মেনিয়ান বাহিনীর অপ্রত্যাশিত গোলাগুলি নিন্দনীয় এবং সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক। এটি পুরো অঞ্চলের

শান্তি ও সুরক্ষা বিনষ্ট করতে পারে। আর তীব্রতর পরিস্থিতি এড়াতে আর্মেনিয়াকে অবশ্যই তার সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘পাকিস্তান আজারবাইজানের পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছে। তারা (আর্মেনিয়া) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত রেজুলেশনকে তারা বারবার অগ্রাহ্য করছে।’

গত মঙ্গলবার ভারতের কিছু মিডিয়া প্রচার করে যে, পাকিস্তানের সেনারা আজারবাইজানের পক্ষে আর্মেনিয়া আগ্রাসনের মোকাবেলায় যুদ্ধ করছে।

ওই সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে পাকিস্তান জানিয়েছে, আজারবাইজানে তাদের কোনো সেনা পাঠানো হয়নি।

কে কোন পক্ষে?
আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যকার এই লড়াই তুরস্ক এবং রাশিয়াকে আরেকবার মুখোমুখী করেছে। পশ্চিমা চাপ ও ভীতি উপেক্ষা করে তুরস্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাশিয়ার আরো কাছে আসলেও সিরিয়া এবং লিবিয়াতে পরস্পর বিরোধী অবস্থানে আছে আঙ্কারা এবং মস্কো।

তুরস্ক এবারে খুব হাঁকডাক দিয়েই আজারবাইজানের পক্ষ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান, তার উপদেষ্টারা, তুর্কি সেনাবাহিনী, দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সহ আপামর জনসাধারণ বাকুর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে।

আজারবাইজানের সঙ্গে এমনিতেই তুরস্কের জাতিগত মিল এবং ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। তুরস্ক এবং আজারবাইজানকে বলা হয় ‘দুই রাষ্ট্র এক জাতি।’

তুরস্ক এ দেশটিকে প্রকৃতপক্ষেই ভ্রাতৃপ্রতীম দেশ হিসেবে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে। এছাড়াও দেশটি এখন তুরস্কে প্রধান গ্যাস রফতানিকারক দেশ।

অন্যদিকে আর্মেনিয়ার সঙ্গে বৈরীতাও ঐতিহাসিক। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আর্মেনীয়রা উসমানী সম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলে উভয় পক্ষের লাখ লাখ লোক মারা যায়। আর্মেনীয় ডিয়াস্পোরা সেই ঘটনাকে পুঁজি করে পশ্চিমা দেশগুলোতে তুরস্কের বিরুদ্ধে তথাকথিত গণহত্যার স্বীকৃতি নিতে সক্ষম হয়েছে। বিষয়টি দুদেশের সম্পর্ককে এতটাই তিক্ত করছে যে আঙ্কারা বারবার চেষ্টা করেও এটিকে মিষ্টি সম্পর্কে উন্নীত করতে পারেনি।

এছাড়াও নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে তুরস্ক সবসময়ই সোচ্চার ছিল।

অন্যদিকে রাশিয়া সেই সোভিয়েত আমল থেকেই আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার ওপর খবরদারি করে আসছে। দুইও দেশের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক দহরম মহরম। তবে রাশিয়া সবসময়ই আর্মেনিয়াকে আরো বেশি সামরিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে আসছে।

এখন পর্যন্ত আজারবাইজানের পক্ষে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছে তিনটি মুসলিম দেশ। ওই দেশগুলো হলো-তুরস্ক, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

এ বিভাগের অন্যান্য