বিয়ানীবাজারে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার একটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতাসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার আচরণে ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে। যদিও অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা সকল অভিযোগই মিথ্যে বলে দাবি করেছেন।

অভিযুক্ত তৈয়বুর রহমান পাখি তিলপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড (সদরপুর-নালগ্রাম-রজব) আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি আনজুমানে আল-ইসলাহ্ থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকার মানুষজনের অভিযোগ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোনীত হওয়ার পরই তৈয়বুর রহমান একাধিক ব্যক্তির জমিজমা আত্মসাত করে নেন। শুরুতেই নালগ্রামের কনাই মিয়া নামের এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বেশকিছু জমি দখল করে নেন তিনি। পরে কনাই মিয়া আদালতে মামলা দায়ের করে জমির কাগুজে মালিকানা পেলেও এখন দখল পুণরুদ্ধার করতে পারেননি।

সম্প্রতি একইগ্রামের প্রতিবেশী আব্দুল কুদ্দুছ গংদের আরো বেশকিছু জমি দখল করতে চেষ্টা চালান তৈয়বুর রহমান। এ নিয়ে কয়েকদফা তাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সামাজিক নিষ্পত্তির চেষ্টা করলেও তৈয়বুর রহমানের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে তৈয়বুর রহমানকে জমির দখল ছেড়ে দিতে ইউপি চেয়ারম্যান লিখিত আদেশ দেন।

এদিকে গত ১৫ এপ্রিল থেকে ২৩এপ্রিল পর্যন্ত দফায়-দফায় এই জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা করেন তৈয়বুর রহমান পাখি ও তার অনুসারীরা। হামলায় প্রতিপক্ষের আব্দুস শুকুর, সামাদুর রহমান সাদ্দাম, আসমা বেগমসহ অনেকেই আহত হন। পরে প্রতিপক্ষের লোকজনও তৈয়বুর রহমানের উপর হামলা চালায়। এ নিয়ে বিয়ানীবাজার থানায় তৈয়বুর রহমান পাখির ছেলে হিফজুর রহমান ও আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে আব্দুস শুকুর থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তৈয়বুর রহমান বিষয়টি রাজনৈতিক রুপ দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে পুলিশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবণী শংকর কর বলেন, দু’পক্ষে আহত থাকায় পাল্টাপাল্টি মামলা নেয়া হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন জানান, পুরো তিলপাড়া ইউনিয়নে তৈয়বুর রহমান পাখি তাবিজ-কবজের ব্যবসা করেন। তাবিজ-কবজ দিয়ে এলাকায় তিনি অনেক লোকজনের সাথে প্রতারণা করেছেন।

এসব বিষয়ে তৈয়বুর রহমান পাখি জানান, সব অভিযোগ মিথ্যা। বিরোধীয় জমিজমা তার নিজের নামে রেকর্ড করা আছে। তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কোন অপকর্মে জড়িত নয় বলে দাবি করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য