মাগুরায় করোনা আক্রান্ত ইমাম পড়ালেন তারাবি নামাজ

মাগুরার শালিখা উপজেলার আদাডাঙ্গা মসজিদের ইমামের করোনার লক্ষণ দেখা দেয়ার পর তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দিয়েছিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু তিনি তা না মেনে তারাবির নামাজ পড়ান। পরে জানা গেল ইমাম করোনাভাইরাস আক্রান্ত। এ ঘটনার পর যশোর ও মাগুরা জেলার দুটি গ্রাম লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার উভয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাগুরার শালিখা উপজেলার আদাডাঙ্গা এবং যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার পশ্চিমা এই দুটি গ্রাম লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার পশ্চিমা উত্তরপাড়ার আবদুর রহমান সরদারের ছেলে আবদুল মান্নান (২৫)। তিনি মাগুরার শালিখা উপজেলার আদাডাঙ্গা জামে মসজিদে ইমামতির কাজ করেন। কিন্তু শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করায় শনিবার সকালে তিনি মাগুরার শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফ্লু কর্নারে যান।

সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক এবং সেবিকারা শরীরে করোনা রোগীর লক্ষণ দেখতে পেয়ে তার নমুনা সংগ্রহ করেন। ওইদিনই নমুনা পরীক্ষার জন্য যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পাঠানো হলে রোববার তিনি কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগী হিসেবে চিহ্নিত হন।

শনিবার নমুনা সংগ্রহের সময় আদাডাঙ্গা মসজিদের ইমাম আবদুল মান্নানকে কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নির্দেশনা দেয়া হলেও তিনি সেটি মানেননি। এমনকি তারাবির নামাজ সীমিত করার সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শনিবার রাতে অন্তত ৫০ জন মুসল্লিকে নিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করেন তিনি। পরে সকালে নিজের গ্রাম যশোরের বাঘারপাড়ার নারিকেল বাড়িয়ার ইউনিয়নের পশ্চিমা গ্রামে ফিরে যান।

এ বিষয়ে শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভির রহমান বলেন, নির্দেশনা উপেক্ষা করে তিনি বিভিন্ন কাজ চালিয়ে গেছেন। মসজিদ এবং তার গ্রাম দুটিই পাশাপাশি। উভয় গ্রামেই লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তি যাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

এ বিভাগের অন্যান্য