সকালে কারাগারে এমপি, বিকালে বিচারক বদলি

নিউজ ডেস্ক: আউয়াল ও তার স্ত্রী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লায়লা পারভীনকে দুদকের মামলায় কারাগারে পাঠানো বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নানকে মঙ্গলবার বিকেলেই অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মনজুরুল ইসলাম মোর্শেদ এ বিষয়ে নিশ্চিত করে  জানান, আজ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আইন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে বদলি করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি আদেশ অফিস ফ্যাক্সের মাধ্যমে আমরা পাই। ওই আদেশে জেলা দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নানকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা জেলা জজ হিসাবে বদলি সহ একই সাথে পিরোজপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নাহিদ নাছরিনকে ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি এ দায়িত্ব পাওয়ার পর আউয়ালের পক্ষের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন পুনরায় আউয়াল দম্পত্তির জামিন পুন:বিবেচনার জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই দিন আউয়াল দম্পত্তি জামিন লাভ করেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম খান পান্না বলেন, সাবেক এমপি আউয়ালের বিরুদ্ধে দুদক যে মামলা করেছেন তাতে আমার কোন অপরাধী মূলক কর্মকাণ্ড পাই নি। তিনি উদ্দেশ্য মূলকভাবে ও আর্থিক লাভবান হয়ে আউয়াল ও তার স্ত্রীর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ পেয়ে আসামিরা মেডিকেল ওয়ার্ডে যাওয়ার আবেদন করেন। এ ঘটনার কিছু সময় পর আইন মন্ত্রনালয়ের এক আদেশে তাকে (বিচারক) অন্যত্র বদলি করা হয়। আর এর পরে আবার জমিনের আবেদন করলে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ নাহিদ নাছরিন জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, দুদুকের দায়ের হওয়া মামলায় এমপি আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীন উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিন নিতে ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নান এর আদালতে হাজির হন। এ সময় আদালত এক আদেশে তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।

জানা গেছে, এর আগে গত ৩০ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাদী হয়ে সাবেক এমপি আউয়াল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে ৩টি মামলা দায়ের করেন। এর একটিতে সাবেক এমপি আউয়ালের সাথে তার স্ত্রী লায়লা পারভীনকেও আসামি করা হয়। ওই সব মামলায় তিনি ও তার স্ত্রী গত ৭ জানুয়ারি উচ্চ আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের জন্য জামিন লাভ করেন। আর ওই জামিনের শেষ কার্যদিবস ছিলো মঙ্গলবার ৩ মার্চ।

এ বিভাগের অন্যান্য