সিলেটে রেকর্ডের জয় দিয়ে মিশন শুরু টাইগারদের

নিউজ ডেস্ক: সিলেটে বিশাল জয় দিয়েই মিশন শুরু হলো টাইগারদের। রোববার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৬৯ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে মাশরাফি বাহিনী। এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জয়। এর আগে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৩ রানের ব্যবধানে জিতেছিল টাইগাররা।

অবসর নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্কের কারণে সিরিজ শুরুর আগেই শিরোনাম হন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ঠান্ডা মাথার এই অধিনায়ককে এমনটা উত্তেজিত আগে কখনোই দেখা যায় নি। তবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ দেখে আরো একবার ভাবতে হবে কেন মাশরাফির অধিনায়কত্ব অপরিহার্য। সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নেয়া, তারপর বিশাল রানের পাহাড় আর তার সাথে দুর্দান্ত বোলিং ফিল্ডিং এ বিশাল জয় সবকিছুতেই অধিনায়কের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ ম্যাচে অনন্য এক রেকর্ডে স্থান করেছেন মাশরাফিও। ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে স্পর্শ করেছেন ১০০ উইকেটের মাইলফলক। যে তালিকায় মাশরাফির আগে আর মাত্র চারজন আছেন।

সিলেটের উইকেটে শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিং ছিল বাংলাদেশের। এক প্রান্তে কেউ থিতু হতে না পারলেও অপরপ্রান্তে আস্থার সাথে খেলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন লিটন দাস। সিলেটের হাজার পাঁচেক দর্শকের সামনে ব্যাটে রানের ফোয়ারা ছুটিয়ে, করেছেন ক্যারিয়ার সেরা রান। তার সেঞ্চুরি আর মো. মিথুনের ফিফটিতে ভর করে বাংলাদেশ দলের ৩২১ রানের বিশাল সংগ্রহ।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংস থামে ১৫২ রানে। শুরুতেই সাইফুদ্দিনের জোড়া আঘাতে ব্যাকফুটে চলে যায় জিম্বাবুয়ে। তার সাথে যোগ দেন মাশরাফি-মিরাজরাও। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন উইসলি মাধেভেরে। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন সাইফুদ্দিন। মিরাজ আর মাশরাফি নিয়েছেন দুই উইকেট করে। মোস্তাফিজ আর তাইজুল পেয়েছেন এক উইকেট করে।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস ওপেন করেন লিটন দাশ ও তামিম ইকবাল। উদ্বোধনী জুটিতে তোলেন ৬০ রান। ব্যক্তিগত ২৪ রানে উইসলি মাধেভেরের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তামিম। ম্যাচের শুরু থেকেই খোলসবন্দী তামিম একটু যেন অস্বস্তিতেই ছিলেন। যদিও রিভিউ নিয়েছিলেন তিনি, তবে রিপ্লেতে দেখা যায় ব্যাট স্পর্শ করেনি বল। তবে তামিম ফিরে গেলেও থামেন নি লিটন। নাজমুলকে সাথে নিয়ে গড়েছেন ৮০ রানের জুটি। দলীয় ১৪০ রানের মাথায় আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে আউট হন নাজমুল। মুতমবডজির বল প্যাডে লাগলে জিম্বাবুয়ানদের আপিলে সাড়া দিয়ে আঙ্গুল তুলে দেন আম্পায়ার।

পরে বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, ইম্প্যাক্ট ছিল স্টাম্পের বাইরে। বলটি কোনোভাবেই স্টাম্পে লাগছিল না। তবে রিভিউ ছিল না বলে ফিরে যেতে হয় নাজমুলকে।

২৯ রান করে নাজমুল ফিরে গেলে মুশফিকের সাথে জুটি গড়েন লিটন। ৪২ রানের জুটি ভাঙ্গে দলীয় ১৮২ রানে। জিম্বাবুইয়ান পেসার তিরিপানোর অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলকে অহেতুক খোচা দিয়ে কট বিহাইন্ড হন ১৯ রান করা মুশফিক। অবশ্য সেই ওভারের প্রথম বলেই সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন। তিরিপানোর বলে চার হাঁকিয়ে শতরান পূর্ণ করেন।

এরপর আরো আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের এই ড্যাশিং ওপেনার। ইনিংসের ৩৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ছয় হাঁকানোর পরই পায়ের পেশিতে টান পড়ে। ড্রেসিংরুমে ফিরে যান ১২৬ রান করে। ১০৫ বলের ইনিংসে চারের মার ছিলো ১৩ টি। সাথে হাঁকিয়েছেন দুটি ছক্কাও। লিটনের ফিরে যাবার পর মাহমুদুল্লাহর সাথে জুটি গড়েন মিথুন। ২৮ বলে ৩২ করে ক্রিষ্টোফার এমপফুর বলে মাহমুদুল্লাহ এলবিডব্লিউ হলে ভাঙ্গে ৬৮ রানের জুটি। ফিফটি তুলে ফিরে যান মিথুনও। এমপফুর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যাবার আগে ৪১ বল খেলে ৫ চার ও এক ছয়ে করেন পঞ্চাশ। শেষদিকে সাইফ উদ্দিনের ঝড়ো ২৮ রানে একসময় সাড়ে তিনশর কাছাকাছি স্কোরের সম্ভাবনা গড়েও বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৬ উইকেট হরিয়ে ৩২১ -এ।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে দুই উইকেট নেন ক্রিষ্টোফার এমপফু। মুম্বা, মাদেভেরে, তিরিপানো ও মুতমবডজি নেন এক উইকেট করে। ম্যাচসেরার পুরষ্কার উঠেছে লিটন দাশের হাতে।

এ বিভাগের অন্যান্য