মোদির আগমন ঠেকাতে হেফাজতসহ ইসলামী দলগুলোর কঠোর অবস্থান

নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন ঠেকাতে হেফাজতসহ ইসলামী দলগুলো কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর। হেফাজত বলছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে মোদির উপস্থিতি মেনে নেয়া হবেনা।

ইসলামী দলগুলো বলছে, দিল্লিতে মুসলিম নির্যাতনের বিষয়টি দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপির সাম্প্রদায়িক নীতিকেই সামনে এনেছে। বাবরি মসজিদ, গুজরাটে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার নেপথ্যেও এই দলটি ছিল। এসব কারণে মুজিববর্ষে বিতর্কিত এই রাজনীতিকের অংশগ্রহণ তারা মেনে নিতে পারছেন না।

দিল্লিতে মুসলিম নির্যাতন, হত্যা এবং নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন ঠেকাতে শুক্রবার সিলেটসহ সারা দেশে ইসলামী দলগুলো বিক্ষোভ মিছিল করেছে।এই সব মিছিল থেকে তারা আরো কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী বলেন, ‘মুজিববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের জনগণ দেখতে চায় না। মোদির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদতে গুজরাট, কাশ্মির, দিল্লিসহ অনেক রাজ্যে মুসলমানদের হত্যা করা হয়েছে। যার হাতে এখনও মুসলিম গণহত্যার দাগ লেগে আছে, তার উপস্থিতি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। অবিলম্বে মোদির রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণ বাতিল করা হোক।’
মূলত: আল্লামা শাহ আহমদ শফীর এই বিবৃতির পরই কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে।
পর্যবেক্ষক মহল ধারণা করছেন, এই আন্দোলনকে আরো ছড়িয়ে দেয়া হতে পারে আর এতে করে দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি হবার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন বিরোধীরাও এটিকে একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। এটি নিয়ে কাল ক্ষেপনের অবকাশ নেই।

পর্যবেক্ষক মহল-সরকারকে এই ইস্যু নিয়ে দ্রুত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সাথে বৈঠক করার পরামর্শ দিয়েছেন।
আল্লামা শফী তাঁর বিবৃতিতে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বলে উল্লেখ করেছেন।
তাই এই দেশে একজন ‘সাম্প্রদায়িক’ ব্যক্তি অতিথি হয়ে এলে এবং তাকে মেনে নিলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্বল হবে। এটি সরকারের পক্ষ থেকে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কাছে উপস্থাপন করলে একটা ফল পাওয়া যেতে পারে। হয়তো বা এতে করে হেফাজত মোদির আগমন ঠেকাও আন্দোলন থেকে সরে আসতে পারে।

তবে দিল্লিতে মুসলিম নির্যাতন এবং হত্যার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার তাদেরকে দেয়া উচিৎ। কারণ এটি মানুষের মানবিক আবেগ।পৃথিবীর যেখানেই মানবতা লঙ্ঘিত হবে মানবিক মানুষেরা এর প্রতিবাদ করবে এটাই স্বাভাবিক।

এ বিভাগের অন্যান্য