বানিয়াচংয়ে কৃষি কাজে পুরুষের পাশাপাশি শ্রম দিচ্ছেন নারীরা

নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের বানিয়াচং হাওর এলাকার চিত্র দেখলেই মনে পড়বে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘নারী’ কবিতার এই অংশ ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি, চির কল্যাণকর/ অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’ এ যেন নারীর শ্রমে হচ্ছে বানিয়াচংয়ে ‘নতুন হাওর’। একসময় পুরুষের শ্রম-ঘামে গড়ে ওঠা হাওরের কৃষি এখন নতুন সঞ্জীবিনী লাভ করছে নারীর হাতের ছোয়ায়।

উপজেলার হাওরে কৃষি কাজে পুরুষের পাশাপাশি শ্রম দিচ্ছেন নারীরা। পুরুশ শ্রমিকদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরা ধানের চারা তোলা,চারা রোপন ও নিড়ানির কাজ করে থাকেন। নারী শ্রমিকদের কাজে কৃষকগন যেমন সন্তুষ্ট হচ্ছেন তেমনি নারী শ্রমিকরাও উপরি টাকা রোজগার করে সংসারের দারিদ্র্যতা দূর করে সকলের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছেন।

হাওরে নারী শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা সংসারের সবকাজ শেষ করে ঘর থেকে বের হন। সারাদিন হাওরে শ্রম দিয়ে দিনশেষে আবার টাকা নিয়ে ঘরে ফিরে রান্না ও সংসারের যাবতীয় কাজ করছেন। এত কোন সমস্যা হচ্ছেনা।

সরেজমিনে বানিয়াচংয়ের হারুনী বোরো হাওরে কথা হয় মহিলা শ্রমিকদের সাথে। এসময় বোরো ধানের চারা তোলার কাজ করছিলেন জল্পনা দাশ(৪২),পাতলক্ষী দাশ(৭০),দয়াময়ী দাশ(৪৫),নমিতা দাশ(৩৮),সাধবী দাশ(৫০),রাধারানী দাশ(৮০)। তারা সবাই এসেছেন পাশবর্তী গ্রাম থেকে।

রাধারানী দাশ স্থানীয় একজন জানান, এই বয়সে কাজ করে খেতে হয়। কারন আমরা গরীব মানুষ। ছেলের সংসারে থাকি কিছু উপরি উপার্জন করে দিতে পারলে ছেলে ও ছেলের বউ খুবই খুশি হয়। জল্পনা দাশ(৪২) জানান, খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে রান্ন করে স্বামী সন্তানদেরকে ভাত খাওয়াইয়া তারপর হাওরে কাজ করতে এসেছেন।

সকাল নয়টা থেকে কাজ করে বিকাল ৩টায় বাড়িত যাব। মুজুরী দুই থেকে আড়াইশ টাকা। পাতলক্ষী দাশ(৭০) জানান,একটা বয়¯ক ভাতার কার্ড থাকলে হয়তোবা হাওরে কাজ করা লাগত না। সাধবী দাশ(৫০)জানান, আমরা অনেক বছর যাবৎ হাওরে কাজ করতে আসি। আমাদের কাজ করতে কোন সমস্যা হয় না।

এব্যাপারে কৃষক সুন্দর আলী জানান, মহিলা দিয়ে কাজ করালে শান্তি পাওয়া যায়। মহিলারা ফাকিঝুকি কম করেন। তারা সময়মতো কাজে আসেন এবং সময়মতো কাজ শেষ করেন। তাদেরকে পুরুষ শ্রমিক থেকে বেতন কিছু কম দিলেও সমস্যা হয়না।

এ বিভাগের অন্যান্য