৬৮ বছরেও স্বীকৃতি পাননি তিন ভাষাসৈনিক!

নিউজ ডেস্ক: ভাষা আন্দোলনের দীর্ঘ ৬৮ বছর পার হলেও স্বীকৃতি পাননি মৌলভীবাাজরের কমলগঞ্জের তিন ভাষাসৈনিক। বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা এই তিন ভাষাসৈনিক হলেন সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত মোহাম্মদ ইলিয়াস, সাংবাদিক সৈয়দ মতিউর রহমান ও চা শ্রমিক নেতা মফিজ আলী। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভাষা সৈনিকদের নামানুসারে বিভিন্ন সড়ক কিংবা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ অথবা বৃত্তি প্রদান করা হলেও এই তিন ভাষাসৈনিককে নিয়ে সরকারি-বেসরকারি কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

কমলগঞ্জ উপজেলার কুশালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত মোহাম্মদ ইলিয়াস। ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকার রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস ভাষা আন্দোলনে ঢাকা কেন্দ্রিক নেতা হলেও মূল্যায়ন পাননি তিনিও।

এছাড়া উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ মতিউর রহমান। তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের স্কুল এবং কয়েকটি মাদ্রাসায় ছাত্র ধর্মঘট পালনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই সময় বিশাল প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন তিনি।

এছাড়া প্রতিবাদ সভা ও ছাত্র ধর্মঘট পালন করা হয়েছিল কমলগঞ্জ উপজেলা সদর, শমশেরনগর, ভানুগাছ বাজারে। স্থানীয়ভাবে ভাষাসৈনিক হিসেবে প্রয়াত সৈয়দ মতিউর রহমানকে একাধিক সংগঠনের মরণোত্তর পদক দেওয়া হলেও সরকারিভাবে তাঁর কোনো মূল্যায়ন হয়নি।

ভাষা আন্দোলনে আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেন উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের ধূপাটিলা গ্রামে জন্মগ্রহণকারী প্রয়াত মফিজ আলী। পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভাষা আন্দোলনের সময়ে সিলেট ও শমশেরনগরকেন্দ্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ভাষা আন্দোলনের সেই পথ ধরেই তিনি প্রগতিশীল রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং সর্বশেষ পূর্ব পাকিস্তান চা শ্রমিক সংঘের শ্রমিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ভাষা আন্দোলনের অগ্রসৈনিক হিসেবে মফিজ আলীকে ২০০৩ সালে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা প্রদান করলেও আর কোনো মূল্যায়ন পাননি তিনি।

কমলগঞ্জের লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন ঢাকাকে কেন্দ্রবিন্দু করে সংগঠিত হলেও তা হয়ে ওঠে বাঙালির জাতীয়তা তথা জাতিসত্ত্বার আন্দোলন। ঔপনিবেশিক পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভাষা আন্দোলন একইসঙ্গে গ্রাম ও শহরকে যুক্ত করে। ফলে বিভিন্ন স্থানে এ আন্দোলনের চরিত্র অভিন্ন ছিল।

কমলগঞ্জের কুশালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস ভাষা আন্দোলনের ঢাকা কেন্দ্রিক নেতা হলেও তিনিও মূল্যায়ন পাননি। তেমনি বৃহত্তর সিলেটের অন্তর্গত কমলগঞ্জের পতনঊষার ইউনিয়নের দুই কীর্তিমান পুরুষ প্রয়াত সৈয়দ মতিউর রহমান ও প্রয়াত শ্রমিক নেতা মফিজ আলী ভাষা আন্দোলনের দৃশ্যমান নেতা ছিলেন। তাই সরকারের কাছে কমলগঞ্জবাসীর দাবি, আগামীতে যেন এই তিনজনকে বিবেচনায় আনা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য