শাফায়াতের টার্গেট ছিলো নারী!

নিউজ ডেস্ক: সিলেটে বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল আনসার আল ইসলামের। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছিল শাফায়েত। শাফায়েত তার কার্য দ্বারা ধর্মভীরু সহজ সরল ও শান্তিপ্রিয় নারীদেরকে উগ্রবাদী কার্যক্রম, নাশকতা সৃষ্টিতে উদ্বুদ্ধ করে আসছিল। তার মাধ্যমে দেশের আইন শৃঙ্খলা বিনষ্ট, জনসংহতি, নিরাপত্তা ও জনমনে ত্রাস সৃষ্টির প্রয়াস চালিয়ে আসছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার রাতে সিলেট নগরীর সাগরদিঘীরপার এলাকা থেকে র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া শাফায়েত আহমেদ চৌধুরীকে (১৮) থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটকের পর বৃহস্পতিবার শাফায়েতকে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-২ এর সদস্যরা।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ জেলার মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা (নম্বর-৬৬) দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানা গেছে।

শাফায়েত আহমেদ চৌধুরী সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার গণিপুর গ্রামের কাওছার আহমদ চৌধুরীর ছেলে। শাফায়েত সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের ২য় বর্র্ষের ছাত্র।

র‌্যাব সূত্র জানায়, ৩০ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে আবু রায়হান লিমন (২০), মো. সাইফুল্লাহ নাঈম (২১) ও নাবিল চোকার (১৯) নামের তিন জন জঙ্গিকে আটক করে র‌্যাব। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের আত্মঘাতী জঙ্গি সদস্য।

তাদের জবানবন্দিতে সিলেটে অবস্থানরত শাফায়েত নামে এক তরুণের নাম উঠে আসে। সে সূত্র ধরে ধারাবাহিক অনুসন্ধান চালিয়ে শাফায়েতের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় সিলেট নগরীর সাগরদিঘীরপার মনিপুরীপাড়ার ৭৪/৩ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১৫টি জিহাদি বই, জঙ্গিদের ট্রেনিং ম্যানুয়েল, পাসপোর্ট , মোবাইল, ল্যাপটপ , মিডিয়া সামগ্রী, ভিডিও নির্মাণের বিভিন্ন সমগ্রী ও উস্কানিমূলক লিফলেট উদ্ধার করা হয়। আটকের পরপরই তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

র‌্যাব জানায়, শাফায়েত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তার ল্যাপটপ ও মোবাইল তল্লাশি করে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার সরাসরি প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগযোগের গ্রুপের মাধ্যমে তারা জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছিল।

শাফায়েতকে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-২ এর কোম্পানী কমান্ডার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী।

এ বিভাগের অন্যান্য