আলো ছড়াচ্ছে মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল

নিউজ ডেস্ক: সুন্দর এ পৃথিবী দেখতে কে না চায়! কিন্তু শারীরিক নানান জটিলতায় মানবদেহের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ চোখ কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে; তখন অন্ধকার নেমে আসে জীবনে। এমন হতাশাগ্রস্ত রোগীদেরই চোখের আলো বিলিয়ে চলেছে মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল।

দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে জেলায় চক্ষুসেবা দিয়ে চলেছে ৩৪ বছরের পুরাতন এ প্রতিষ্ঠানটি। চোখের নানান সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বয়সের রোগীরা এখানে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছেন এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি (বিএনএসবি) এই হাসপাতালটি চালুর পর ১৯৭৪ সালে মৌলভীবাজারে প্রথম চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়। ১৯৮৬ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং দেশি-বিদেশি অন্যান্য দাতাদের সহযোগিতায় মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল একটি পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের রূপ লাভ করে। এ বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে দূরের রোগীদের জন্য শায়েস্তাগঞ্জ এবং নবীগঞ্জে প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসা ও পরিচর্যা কেন্দ্র চালু রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুলাউড়াতে অনুরূপ পরিচর্যা কেন্দ্র চালু হতে যাচ্ছে।

সমাজ হতে অন্ধত্ব দূরীকরণ এবং সমাজের দরিদ্র অসহায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেবার ব্রত নিয়ে মৌলভীবাজার শহর হতে দুই কিলোমিটার দূরে মাতারকাপন নামক স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয় এই চক্ষু হাসপাতালটি।

হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা গেছে, ১৪ জন অভিজ্ঞ চিকিৎসক, ৩২ জন সেবিকা এবং ১৪০ জন পূর্ণকালীন কর্মী রয়েছে। এ-স্ক্যান, বি-স্ক্যান, লেজার চিকিৎসা, ওয়ান-স্টপ ছানি ক্লিনিক, ডায়াবেটিক ইউনিট, গ্লুকোমা ইউনিট, অকুলার মাইক্রোবায়োলিকিক পরীক্ষাগার, ইন্ট্রাকুলার লেন্স ও ফ্যাকো সার্ভিস, বিশেষ পেডিয়াট্রিক ইউনিটসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে এখানে।

এ চক্ষু হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- বর্হিবিভাগ এবং আন্তঃবিভাগ কার্যক্রম, মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ল্যাবরেটরীর কার্যক্রম, ডায়াবেটিক ইউনিটের কার্যক্রম, চক্ষু শিবির কার্যক্রম, স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রাম (এসএসটিপি), স্কুল শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং বিশেষায়িত শিশু বিভাগের কার্যক্রম।

সম্প্রতি এ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, চোখের সমস্যা আক্রান্ত অসংখ্য রোগী এখানে ভর্তি হতে এসেছেন। বহির্বিভাগ এবং আন্তঃবিভাগ সবখানেই একই অবস্থা।

নিজের মাকে নিয়ে এ হাসপাতালে এসেছেন লন্ডনপ্রবাসী জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, আমার আম্মার চোখের সমস্যা আর বয়েসও অনেক বেশি। তাই উনাকে ইউকে (লন্ডন) নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো আমার সামর্থের মধ্যে থাকলেও উনার শারীরিক অবস্থার কারণে এখন পারছি না। তাই কোনো উপায় না দেখে মৌলভীবাজার এ চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে এলাম। তাদের সেবা-আন্তরিকতা দেখে আমি সন্তুষ্ট।
এ হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক ডা. শাহ আমিনুল ইসলাম বলেন, শিশু অন্ধত্ব বাংলাদেশের জন্য স্পর্শকাতর জটিল সমস্যা। আমাদের শিশুবিভাগটি আরো উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর। শিশুদের চোখের নানান সমস্যা অপারেশনের মাধ্যমে দূর করা হয়। ১দিন বয়সের শিশু থেকে ১৬ বছর বয়সের শিশুদের চিকিৎসা করে চলেছি আমরা।

হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোসাহিদ আহমদ চুন্নু বলেন, আমরা এ চক্ষু হাসপাতালটিকে অচিরেই ট্রেনিং ইন্সটিটিউট হিসেবে দেখতে চাই। আরো অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি চলে এসেছে এবং শিগগিরই এগুলো স্থাপিত হতে যাচ্ছে এখানে। আমাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে ‘প্রতিবন্ধিতা উত্তরণ সম্মাননা-২০১৮’ পদক পেয়েছি।

হাসপাতালটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. এহসানুল মান্নান বলেন, মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল কর্তৃক আয়োজিত মোট চক্ষু শিবিরের সংখ্যা ৫৮৯টি, চক্ষু শিবিরে চিকিৎসাকৃত রোগীর সংখ্যা ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১জন, চক্ষু শিবিরে অপারেশনকৃত রোগীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৬৬৭জন, চিকিৎসাপ্রাপ্ত শিশু রোগীর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪৯ জন।

২০১৭ এবং ২০১৮ এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন যথাক্রমে ১ লাখ ৩ হাজার ৫৩৬ জন এবং ১ লাখ ৪ হাজার ৬৮০ জন মানুষ। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৫০ জনে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে সুস্থ হয়েছেন রোগীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৩৯০ জন বলে জানান মো. এহসানুল মান্নান।

এ বিভাগের অন্যান্য