চুনারুঘাটে ভাতিজিকে ধর্ষণকারী লম্পট চাচার বিরুদ্ধে মামলা

নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে চায়ের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তা খাইয়ে মা-মেয়েকে অজ্ঞান করে ভাতিজিকে ‘ধর্ষণ’ করেছে এক লম্পট চাচা। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার (২০ জানুয়ারি) উপজেলার গাজিপুর ইউনিয়নের বাসুল্লা গ্রামে।

গ্রাম্য শালিস বৈঠকে বিষয়টি নিষ্পত্তির আশ্বাসের ৫ দিন পর গত শনিবার (২৫ জানুয়ারি) চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য রোববার (২৬ জানুয়ারি) হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, চুনারুঘাটের বাসুল্লা গ্রামের মৃত গাবরু মিয়ার লম্পট পুত্র আব্দুল হান্নান তার আপন ফুপাতো ভাই একই গ্রামের কাজল মিয়ার ঘরে ঘটনার রাতে চা খেতে যায়। কাজল মিয়ার মেয়ে চা তৈরি করতে রান্নাঘরে গেলে হান্নান নিজেই চা তৈরি করার জন্য সেখানে যায়। চা তৈরি করে সবাইকে খেতে দেয় এবং খোশগল্প করতে থাকে। একসময় সবাই ঘুমিয়ে পড়লে হান্নান কাজল মিয়ার ৯ম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে (১৫) অজ্ঞান অবস্থায় ধর্ষণ করে। সকালে ঘুম থেকে দেরি করে উঠতে দেখে পাশের ঘরে থাকা ওই কিশোরীর ভাই তাদের ডাক দেন কিন্তু তারা ঘুম থেকে কিছুতেই উঠছিলেন না। এ সময় সে চিৎকার দিলে এলাকাবাসী এসে ওই কিশোরী ও তার মাকে অচেতন অবস্থায় পান। লোকজনের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে চুনারুঘাট হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার বিষয়টি শালিস বৈঠকের মাধ্যমে শেষ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কয়েক দফা দর কষাকষি করেও সমাধান হয়নি। এর ৫ দিন পর গত শনিবার রাতে চুনারুঘাট থানায় ধর্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

স্থানীয় মেম্বার ছালেক মিয়া দাবি করেছেন, ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি ফুল মিয়া কাজী সালিশের আয়োজন করে তাদের আটকে রাখেন।

চুনারুঘাট থানার ওসি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযোগের সাথে সাথে দ্রুত মামলা নিয়েছি এবং ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণকারীকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের শালিস বৈঠকে অবহেলা ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য