সিলেটে ‘ওভারলোড’ ট্রাকে ভাঙছে সড়ক

নিউজ ডেস্ক: সিলেটের সড়কে এখন ‘ওভারলোড’ ট্রাকের দৌরাত্ম। সড়কের কোন নিয়ম-নীতিই মানছে না ট্রাক চালকেরা। এ অবস্থায় মালবাহী ট্রাকের অতিরিক্ত চাপ নিতে না পেরে ভেঙে যাচ্ছে রাস্তা-ঘাট। এরই মধ্যে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ অনেক রাস্তা ভেঙে হয়েছে খানা-খন্দ। সংস্কার করা হলেও তা ভেঙে যাচ্ছে মাস দুয়েক যেতে না যেতেই। কিন্তু ‘ওভারলোড’ ট্রাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নানা অজুহাত দেখিয়ে প্রশাসনও রয়েছে নির্বিকার।

সরেজমিনে দেখা গেছে- রাত ৯ টার আগে সিলেট শহরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিকেল থেকে বিমানবন্দর বাইপাস সড়কে এসে জমা হতে থাকে ভোলাগঞ্জ থেকে আসা পাথরবাহী ট্রাকের বহর। এমন ট্রাকের সারি দীর্ঘ হতে হতে অনেক সময় পৌছে যায় শালুটিকর পর্যন্ত।

এরপর রাত ৯ টায় সিলেট শহর কাঁপিয়ে ছুটে চলে পাথর বোঝাই ট্রাক। কিন্তু সড়কের কোনো নিয়মনীতি থোড়াই তোয়াক্কা করে না তারা। নিয়মের চেয়ে দ্বিগুণ মালামাল নিয়ে দাপীয়ে চলে সড়ক। ৪০০ ফুটের জায়গায় তারা নিয়ে যায় প্রায় দ্বিগুণ মাপের পাথর। ফলে একের পর ভাঙছে রাস্তাঘাট। বিশেষ করে মাত্রাতিরিক্ত খানা-খন্দে ভয়ঙ্কর অবস্থা হয়েছে কুমারগাঁও বাসস্টেশনের পার্শ্ববর্তী এলাকার। এছাড়া নগরীসহ এর আশপাশের বেশ কয়েকটি সড়ক রয়েছে হুমকির মুখে।

গত দিক-দশেক পূর্বে রাস্তায় দেবে যাওয়ায় নগরীর মিরের ময়দান থেকে দুই দিনে ২১টি অতিরিক্ত মালবাহী ট্রাক আটক করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। শুধু তাই নয়, গত এক সপ্তাহে এমন অতিরিক্ত মালবাহী ট্রাকের চাপায় নগরীতে দুজন প্রাণও হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে বড় ধরণের ভোগান্তিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ।

এমন ভোগান্তিতে সাধারণ জনগণের অভিযোগ অতিরিক্ত মালবাহী ট্রাকের দিকে। তবে জনগণের এমন অভিযোগ মেনে নিয়ে সড়কের নিয়মনীতি না মানার কথা নিজেরাই স্বীকার করলেন চালকেরা। জানালেন, দ্বিগুণ মালামাল বহনের কারণও।

ট্রাক চালকেরা জানান- বর্তমানে ট্রাক পরিবহন ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ। ট্রাকের কিছুটা ক্ষতি হলেও অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন ছাড়া তাদের টিকে থাকার আর কোনো রাস্তা নেই। এতে ট্রাক মালিকও বাঁচে, পণ্যের মালিকও বাঁচে।

‘ওভারলোড’ ট্রাকের দৌরাত্মে যখন সিলেটের রাস্তাঘাট বেহাল তখন এসব ট্রাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারার কারণ হিসেবে ওজন পরিমাপ যন্ত্রের অভাবকেই দায়ী করলো সিলেটের পুলিশ প্রশাসন।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা বলেন- ‘ওভারলোড’ ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ আনতে গেলে প্রথমেই ওয়ে স্কেলের (ওজন পরিমাপক যন্ত্র) প্রয়োজন। কিন্তু এসএমপির ওয়ে স্কেল নেই। এতে মালামাল সঠিকভাবে পরিমাপ করতে না পারায় যথাযত ব্যাবস্থাও গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

এদিকে রাস্তা ভাঙার ব্যাপারে ওভারলোড ট্রাকের পাশাপাশি নিম্নমানের সড়ক সংস্কার কাজের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে ভুক্তভোগী জনসাধারণের। যদিও নিম্নমানের সড়ক সংস্কার কাজের অভিযোগ অস্বীকার করে ওভারলোড ট্রাকের উপরই দায় চাপালো সড়ক ও জনপথ, সিলেট।

এ ব্যাপারে সওজ সিলেট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া বলেন- ওভারলোড ট্রাকের কারণে বেশির ভাগ রাস্তার সমস্যা হচ্ছে। তবে কিছু জায়গার মাটিই খারাপ। ওই মাটির অতিরিক্ত লোড নেয়ার ক্ষমতা নেই। যে কারণে রাস্তা বেশি ভাঙ্গছে। এখানে নিম্নমানের সংস্কার কাজের অভিযোগ ঠিক নয়।

ওভারলোড ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বলেন- ওজন পরিমাপক যন্ত্র ছাড়া ওভারলোড ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সরকার সড়কে ২৯টি ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এটা বাস্তবায়ন হলে ওভারলোড ট্রাক নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

সিলেটের ভোলাগঞ্জ ও জাফলং দেশের বৃহত্তম দুটি পাথর কোয়ারি হওয়ায় পাথরবাহী ট্রাকের দৌরাত্মও সবচেয়ে বেশি সিলেটের সড়কে। কিন্তু সঠিক তদারকির অভাবে ওভারলোড ট্রাকের কাছে জিম্মি হয়ে আছে সিলেটবাসী। সিলেটের সড়ক বাঁচাতে এবং সিলেটকে পর্যটনের উপযোগী করে গড়ে তুলে দ্রুত ওভারলোড ট্রাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সাধারণ মানুষের।

এ বিভাগের অন্যান্য