শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকালে সিলেটে বইপড়া উৎসবের ১৩তম এ আসরের উদ্বোধন হচ্ছে। বিকাল ৩ টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদমিনার প্রাঙ্গণে এ উৎসবের সূচনা হবে। এ সময় নিবন্ধনকৃত হাজারো শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হবে। তরুণ প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার প্রত্যয়ে ইনোভেটর এর উদ্যোগে বইপড়া উৎসবের এবারের আসরে সার্বিক সহযোগিতা করছে জেলা পরিষদ, সিলেট।

বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইনোভেটর এর পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে বিভিন্ন উপকমিটি। অনুষ্ঠান সফলে হয়েছে প্রস্তুতি সভা। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বইপড়া উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সিলেটের ও দেশের শিল্প, শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থাকবেন। গীতবিতান বাংলাদেশের প-পরিচালনায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হবে বইপড়া উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

বইপড়া উৎসবে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এতে সিলেট মহানগরীর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে শিক্ষার্থীরা নাম নিবন্ধন করেছেন।

এ ব্যাপারে বইপড়া উৎসবের উদ্যোক্তা, ইনোভেটর মুখ্য সঞ্চালক রেজওয়ান আহমদ এবং নির্বাহী সঞ্চালক প্রণবকান্তি দেব জানান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার প্রতি তারুণ্যের এ আগ্রহ – উচ্ছ্বাস তাঁদের আশাবাদী করে।

তারা জানান তিনি জানান, মোট ১০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৭জন শিক্ষার্থী এবার বইপড়ার মহোৎসবে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে সাধারণ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, মাদ্রাসা এবং প্রতিবন্ধী ও সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা রয়েছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেয়া হবে।

এদিকে, বইপড়া উৎসবের সহযোগী জেলা পরিষদ, সিলেট এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবজিৎ সিংহ জানান, আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তোলার প্রয়াসেই এই বইপড়া উৎসব। তিনি শিক্ষার্থীদের ২১ ডিসেম্বর যথাসময়ে সিলেট শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে বই গ্রহণের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ” জ্ঞানের আলোয় অবাক সূর্যোদয় / এসো পাঠ করি/ বিকৃতির তমসা থেকে / আবিষ্কার করি স্বাধীনতার ইতিহাস ” শ্লোগানকে সামনে রেখে বইপড়া উৎসব শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে। তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক উৎসাহের কারণে উৎসবটি এর পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০১৭ সালে জয়বাংলা ইয়ুথ এওয়ার্ড অর্জন করে ইনোভেটর। উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের বই নিয়ে বাংলাদেশে এটাই একমাত্র আয়োজন যা গত তেরো বছর যাবত চলে আসছে