নবীগঞ্জে ৬০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: নবীগঞ্জে পিয়াজের দোকান গুলোতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অতিরিক্ত পিয়াজ গুদামে রাখায় জরিমানা ও কেজি প্রতি পিয়াজ ৬০ টাকা করে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার বিকেলে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদ বিন হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। শহরের মধ্যববাজার কালীপদ ষ্টোর নামে একটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করার সময় একই মালিকের পিয়াজের গুদামের প্রচুর পরিমাণ পিয়াজের সন্ধান পাওয়া যায়। গুদামে অতিরিক্ত পিয়াজ মজুদ রাখার অপরাধে ওই ব্যবসায়ীকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর উপস্থিতে নবীগঞ্জ থানার এসআই ফখরুজ্জানের নেতৃত্বে একদল পুলিশের সহযোগিতায় ৬০ টাকা কেজি ধরে গুদামের পিয়াজ বিক্রি করা হয়।

২২০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় পিয়াজ কিনতে পারায় উৎসুক জনতা ভিড় জমান। এসময় পিয়াজ বিক্রি করতে গিয়ে পুলিশ ও হিমশিম খায়। ক্রেতারা জানিয়েছেন ৬০ টাকা কেজিতে পিয়াজ কিনতে পেরে তারা খুশি। তবে পিয়াজের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকারের প্রতি আহবান জানান সাধারণ মানুষ। ৬০ টাকা কেজিতে পিয়াজ কিনতে আসা, শাহিনুর রহমান বলেন আজ সকালে ও ২২০ টাকা কেজিতে পিয়াজ কিনতে হয়েছে। এখন ৬০ টাকা কেজিতে কিনতে পেরে অবশ্যই আনন্দ লাগছে। সরফুল নেছা বলেন, ৬০ টাকা কেজিতে পিয়াজ ক্রয় করা ও অনেক কষ্ট সাধিত হয়। রুহেল মিয়া বলেন, আমার জীবনে এই প্রথম লাইনে দাঁড়িয়ে পিয়াজ কিনতে হয়েছে। সুশান্ত সরকার বলেন, অনেক লোকের ধাক্কা খেয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পিয়াজ কিনতে হবে কখন ও চিন্তা করা যায় না।

ইয়াকুব আহমেদ বলেন, এটি পিয়াজ নয় যেন সোনার হরিণের চেয়ে আর ও মূলবান। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদ বিন হাসান বলেন, বাজারে কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী স্বল্প মূলে পিয়াজ ক্রয় করে অধিক মূলে বিক্রি করার জন্য গুদামে মজুদ করে রেখে দেয় এবং নবীগঞ্জ মধ্যবাজারের কালীপদ রায়ের গুদামে ও প্রায় ৭ ’শত কেজি পিয়াজ পাওয়া য়ায়। ওই পিয়াজ গুলো ন্যায্যমূল্য বিক্রি করি এবং কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। এ প্রতিনিধির এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী অফিসার বলেন, এখন থেকে নবীগঞ্জ শহরের প্রত্যেকটি দোকানে পিয়াজের মূল্য ৬০ টাকা রাখতে হবে। ৬০ টাকার বেশি রাখলে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ অভিযানে সহযোগিতা করেছেন ভোক্তা অধিকার আইনের আমিরুল ইসলাম ও নরে আলম সিদ্দিকী।

এ বিভাগের অন্যান্য