“মুই কি হনুরে”

এম রশিদ আহমদ: বিএনপি জামায়াতের খুনি লুটেরা গুষ্টি এখন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ক্ষমতাধরদের মাথায় ছাতা ধরে অতি ক্ষমতাবান হওয়া এবং নিজেদের রক্ষা করার কৌশলে মত্ত।
এর ধারাবাহিকতাই হচ্ছে আরিফুল হক চৌধুরীর বর্তমান অবস্থান। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি, মেয়র থেকে এটাই তাঁর বড় পরিচয়। চারদলীয়জোট সরকারের সময়ে সিলেটের “মুই কি হনুরে”।

২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোরপূর্বক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে তখনকার নির্বাচিত জনপ্রিয় মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানকে পাশ কাটিয়ে নগর উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান হয়ে কর্পোরেশনের সকল কর্মকাণ্ডের দেখভাল ও একচ্ছত্র ক্ষমতার মালিক ছিলেন এই আরিফ। আর নাম মাত্র চেয়ার সর্বস্ব মেয়র ছিলেন বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান।
আজ আমাদের এহেন উদারতা কিংবা চরম ব্যার্থতায় আরিফুল হক চৌধুরী অনেককেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে নিজের ক্ষমতার বাহাদুরি দেখিয়ে যাচ্ছেন।
৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভুমি সিলেটের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারি, বাঙালির চেতনার অন্যতম স্তম্ভ শহীদ মিনার ভাঙার অন্যতম হুতা আরিফুল হক চৌধুরীরা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজরিত বাঙলো ভেঙে মহিলা মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণ করার সকল আয়োজন সম্পন্ন করে ছিলেন।
জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতকে হিন্দুর গান বলে পরিবর্তনের দাবী তুলেছিল। আজ তাদের নেতৃত্বে সিলেটে রবীন্দ্রনাথ উৎসব খুবই বেদনা দায়ক।
মোদ্দা কথা এমন ঐতিহ্যের আয়োজনে মুজিব কন্যার পাশে আরিফুল হক চৌধুরীর মতো খুনি লুটেরা থাকলে মুজিব প্রেমীদের ক্ষত-বিক্ষত করবেই।
জামায়াত জোট সরকারের সময়ে সিলেটে আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে সংগঠিত সকল ঘটনায় উল্টো নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা, বিশেষ করে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। আজকে অতিমাত্রার আদর্শিক ক্ষমতালোভী আওয়ামী লীগারদের অসহায় আত্মসমর্পণ সেই সময়ের নির্যাতিত নেতা কর্মীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ আর বোবাকান্না, চাপা আর্তনাদ অভিশাপে রুপ নিতে খুব বেশি সময় বাকী নেই।
জননেত্রী শেখ হাসিনা যাদের বিশ্বাস করে আস্থা রেখে নেতা বানিয়েছেন তারাই যখন তাঁর বিশ্বাসের দেয়ালে আঘাত হানেন শুধুই কি লোভে না কি ভয়ে এমন প্রশ্ন আমাদের থাকতেই পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য