বৃষ্টিতে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা

নিউজ ডেস্ক: সোমবার রাত থেকে দেয়া থেমে থেমে বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও চাকুরীজীবীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বৃষ্টিপাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা জলামগ্ন হয়ে পড়েছে। কোথাও জমেছে হাঁটু সমান পানি. আবার কোথাও ডুবে গেছে বাড়ির নিচতলা। সব মিলিয়ে এমন জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।

নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর দাড়িয়াপাড়া, জামতলা, চৌহাট্টার সড়ক ও জনপদ অফিসের সামনে, জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক, ছড়ারপাড়, পুরানলেন, শেখঘাট, ঘাসিটুলা, কলাপাড়া, ভাতালিয়া, উপশহর, চৌকিদিঘী, সাপ্লাই রোড, পাঠানটুলা, ইলাশকান্দি, শেখঘাসহ অপেক্ষাকৃত নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার বিকালে সরজমিনে দেখা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে লন্ডনীরোড এলাকায় জলাবদ্ধতার ফলে সুবিদবাজার থেকে মদিনা মার্কেট পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় সড়কের উভয় পাশে প্রায় দুশতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।

এদিকে নগরীর ইলাশকান্দি এলাকার অনেক বাসাবাড়িতেও পানি উঠে পড়েছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন এই এলকাকার বইসন্ধারা।

এছাড়াও বৃষ্টিতে লন্ডনীরোডে জলাবদ্ধতায় পরে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা, মোটরবাইক পথিমধ্যে বিকল হয়ে পড়ে। এসব দেখে অনেক চালক সিএনজি অটোরিকশা নষ্ট হবার ভয়ে লাভলী রোড মোড়ে এসে গাড়ি ঘুরিয়ে নেয়। এসব কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। এসময় অনেক যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে বিকল সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারকে ধাক্কা দিয়ে চালকদের সাহায্য করেন।

সিএনজি চালক মো. রহমত আলী বলেন, প্রায় ১০ বছর যাবত সিএনজি চালাই। প্রতি বছরই বৃষ্টির সময় এই রাস্তায় জলাবদ্ধতা। সারা শহরের কোথাও জলাবদ্ধতা না থাকলে এখনে থাকে। বৃষ্টির দিনে এই রোডটা আমাদের জন্য ভয়ানক হয়ে উঠে। কারণ সিএনজি নিয়ে গেলেই ইঞ্জিনে পানি ডুকে নষ্ট হয়ে যায়।

এব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে একধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা. বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ছড়া ও খাল উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। এতে জলাবদ্ধতা অনেকটাই নিরসন হবে।

এদিকে, বৃষ্টির কারনে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনের তাগিদে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষজন। অন্যদিনের চেয়ে আজ যানবাহনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। গন্তব্যে যেতে অনেক কষ্টে জায়গা হচ্ছে রিকশা কিংবা সিএনজি অটোরিকশাতে। এতে অন্যদিনের চেয়ে ভাড়া দিতে হচ্ছে বেশি।

এ বিভাগের অন্যান্য