সর্বশেষ
করোনা পরীক্ষায় ফি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত: টিআইবি         সুশান্তের পর আত্মহত্যা করলেন অভিনেতা সুশীল গৌডা         পদ্মায় নৌকাডুবির একদিন পর মিলল ২ কৃষকের লাশ, নিখোঁজ ২         শিশু সাহিত্যিক আলম তালুকদার আর নেই         একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রে         শেষ বিশেষ ফ্লাইটে ভারত থেকে ফিরলেন ১১২ বাংলাদেশি         ভার্চুয়াল ডিভিশন বেঞ্চ চালুর সিদ্ধান্ত         এবার রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর শাখা সিলগালা         ফেভিপিরার ট্রায়ালে সুস্থ ৯৬% করোনা রোগী: বিকন         সিনিয়র সাংবাদিক রাশীদ উন নবী বাবু আর নেই         হিফজ মাদ্রাসা খোলার অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি         সিলেটে আরও ৩৪ জনের করোনা শনাক্ত         গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত যুবকের মৃত্যু         পাপুল কুয়েতের নাগরিক হলে তার আসন খালি হবে: প্রধানমন্ত্রী         সুস্থের সংখা ৮০ হাজার ছাড়াল        

বই নিয়ে গেলে মানুষ মনের দরজা খুলে স্বাগত জানায়

এ আনন্দ হিরন্ময়, এ সুখ বড়ো নির্মল, বড়ো অনুপম। এ অনুভূতি কেউ জানে না, এ অনুভূতি ভাগ করা যায় না। হয়তো কেবল জানতে পারে আমার জানালায় বসা ভোরের পাখি, হেমন্তের সোনা রোদ, পথ চলতে গিয়ে পাওয়া পথের ধূলো-মাটি। আমি কাউকে বলি না, না, কাউকেই একেবারে না, যে, বই পড়া কিংবা বই পড়ানোর আনন্দটা কী! আমি বলি, এ আনন্দ বুঝে নিতে হয়। পরম আনন্দের স্বাদ কেউ কাউকে দিতে পারে না। বই নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়া যায়, তার অন্তরের সঙ্গি হওয়া যায়, তার ভাবনার বন্ধু হওয়া যায়। বই নিয়ে গেলে মানুষ মনের দরজা খুলে স্বাগত জানায়।

বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব হলে জীবন অন্যরকম আহ্লাদিত হয়। বালিশের পাশে প্রিয় বইটা থাকলে রাতের পৃথিবীতে নিজেকে বাদশাহ বাদশাহ, রানী রানী লাগে। একটা বই হাতে থাকলে, একটা বইয়ের গল্প মগজে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারলে আপনার চেয়ে আনন্দময় জীবন আর কারো হবে না। বাড়িতে বুক শেলফে হাত বোলালে দেখবেন, মনে হবে- এ হাত স্বর্গের ছোঁয়া পেয়েছে। বলুন তো, বই ছাড়া সংশয়হীন এমন প্রেমানুভব আর কোথায় মেলে? মেলে না বলেই বইকে আমি আমার ‘বন্ধু’, আমার সুখ, দুঃখের সঙ্গী করে নিয়েছি।

প্রায় ১৪ বছর। পায়ে পায়ে এগিয়ে গেছে সময়। ২০০৬ সালের এক হৈমন্তী বিকেলে জন্ম নেয় ‘ইনোভেটর’। বই পড়ানোর আনুষ্ঠানিক প্লাটফর্ম। সেই থেকে বই বই করে বেড়ানো। বলি, এ আমার ছোট্ট জীবনের অনেক বড়ো আনন্দের একটি কাজ। তবু কোনো আনন্দই অনায়াসে কাছে আসে না। কোনো কাজই কন্টকহীন হয় না। কোনো পথই শুধু ফুলে ফুলে বিছানো থাকে না। আকাশে মেঘ থাকে, তারাও থাকে। মুক্তো ফলানো ওতো সহজ না।

মুক্তিযুদ্ধের বইগুলোকে আমি বলি ‘আমার বুকের পাঁজর’। এই সুন্দর দেশটাকে ভালোবাসতে হলে এর জন্ম-ইতিহাস পাঠ ছাড়া কোনো উপায় নেই। ‘ইনোভেটর’ জন্ম থেকে সেই কাজটাই করার চেষ্টা করছে। হয়তো কিছুটা পেরেছে, হয়তো কিছুই পারেনি। কোনো আফসোস নেই। তারুণ্যকে বইমুখী, মুক্তিযুদ্ধমুখী করার প্রয়াসেই সকল কর্মযজ্ঞ আমাদের। এই যে চমৎকার একটি জীবন আমরা কাটাচ্ছি, এতো রূপ, এতো ঐশ্বর্য, এতো বৈভব ছড়ানো জীবন আমাদের- সে জীবনকে বই ছাড়া আর কীভাবে জানা সম্ভব! ইনোভেটর বলে বেড়ায়, ইনোভেটর করে দেখানোর চেষ্টা করে- বই-ই সুন্দর। আমরা বলি, মায়ের মতোন এই দেশটার জন্য এতো যে মায়া,এতো যে আকুলি বিকুলি সময়ে অসময়ে, সেই দেশটার ভেতরকে, ভেতরের অনিন্দ্য সুন্দর রূপকে দেখতে হলে বই পড়তে হয়। যারা এই দেশটাকে আমাদের দিয়ে গেলেন তাদের প্রণতি জানাতে, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনুশীলন করতে হয়। মুক্তিযুদ্ধকে হৃদয়ে ধারণ করতে না পারলে, বাঙাল জনম ব্যর্থ হবে। লক্ষ শহীদের আত্মদান মনে না রাখলে স্বার্থপরতার কলঙ্ক বয়ে বেড়াতে হবে আমাদের। তখন এই দেশ, এই দেশের জল-মাটি আমাদের ক্ষমা করবে না।

প্রায়শই বলি, আমার বুকের ভেতর বড়ো একটা স্থান নিয়ে বসে আছে ‘ইনোভেটর’ আর বই পড়া উৎসব। আমার ভাবনার আকাশে খুব করে বলার মতোন কিছুই নেই; যত যা আছে তার মধ্যে বইপড়া সবচেয়ে বেশি জায়গা নিয়ে বসে আছে। মাঝে মাঝে মনে হয় বই পড়ার কথা ছাড়া অন্য কিছু বলতে গেলেও বোধহয় ঠিকঠাক বলতে পারবো না।

আজ বিশ্ব বই দিবস। করোনার এই মহামারিকালে দিনটি এসেছে। পুরো বিশ্ব ঘরবন্দি। এই সময়েও বই-ই হতে পারে অন্যতম সঙ্গী। আলব্যের ক্যামুর ‘দ্যা প্লেগ’ অথবা গার্সিয়া মার্কেস এর ‘লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা’ বই দু’টো আমাদের কালের দলিল হয়ে আছে। আজকের করোনাও হয়তো উঠে আসবে আগামীকালের পাতায়। আর এভাবেই বই-ই হয়ে উঠবে আমাদের চিরন্তন পথবলার সঙ্গী।

আজকের এই দিনটিতে আবারও বলি, বইয়ের জন্য ভালোবাসা খুঁজি, ভালোবাসা চাই। বইয়ের আলো চাই প্রত্যেক মনে, বইয়ের গন্ধ ছড়িয়ে যাক সবখানে। আমাদের আনন্দ-বিরহে, আমাদের সংকট-সংগ্রামে, আমাদের সাফল্য-ব্যর্থতায় বই যেন হয় পরম বন্ধু।

প্রণবকান্তি দেব : শিক্ষক, প্রাবন্ধিক, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উদ্যেক্তা, ইনোভেটর বই পড়া উৎসব।






Related News

  • জেনে নেওয়া জরুরী, মৃত নারী-পুরুষের গোসলদান
  • মেয়েরা যেভাবে আত্মশুদ্ধি করবে: থানভী রহ.
  • আবরার ফাহাদ হত্যা ও কিছু স্মৃতি বিস্মরণ
  • স্মৃতির ক্যাম্পাসে জামেয়া রেঙ্গা
  • চাকুরীর বিজ্ঞপ্তি
  • এই গ্লানি এই সব দুঃস্বপ্ন কোথায় রাখি! কোথায় যাবো? কোথায় শান্তি? চন্দ্রশিলা ছন্দা
  • সিলেটের যানজটের কারণ ও নিরসনে করনীয়: ফাহাদ মোহাম্মদ
  • পবিত্র শবে মেরাজের সংক্ষিপ্ত পরিচিত- আহসান হাবীব শাহ
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *