সর্বশেষ
জমি নিয়ে বিরোধ, যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা         বাস চলাচলে সরকারের ১২ শর্ত         ‘বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রধানমন্ত্রী ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন’         কাস্টমস-ভ্যাটের ডেপুটি কমিশনারসহ ২২ জন করোনায় আক্রান্ত         সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি পুলিশ করোনায় আক্রান্ত         লিবিয়ায় পাচারকারীদের গুলিতে নিহত ৫ জন ভৈরবের         এবার ‘প্লাজমা ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত ডা. জাফরুল্লাহর         জৈন্তাপুরে গ্রামবাসী মিলে পিটিয়ে মেরে ফেললো ৯টি প্রাণী         সুনামগঞ্জে করোনা আক্রান্ত বাবার সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত ২ সন্তান         অসুস্থ বাবাকে নিয়ে ১২০০ কিমি পাড়ি, জ্যোতিকে নিয়ে হচ্ছে সিনেমা         করোনায় মৃত্যুতে চীনকে ছাড়াল ভারত         নিজের দল থেকেই বহিষ্কার মাহাথির মোহাম্মদ         প্রসূতিকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ, মৃত সন্তান প্রসব         ২৪ ঘণ্টায় আড়াই হাজারের বেশি করোনা আক্রান্ত শনাক্ত         নিখোঁজের ৩ দিন পর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাওয়া যুবকের লাশ উদ্ধার        

আবরার ফাহাদ হত্যা ও কিছু স্মৃতি বিস্মরণ

এইচ বি রিতা: অমনিভোরাস এর নাম শুনেছেন কখনো? অমনিভোরাস কে সর্বভোগ প্রানী বলা হয়ে থাকে। এটি এমন এক প্রজাতির প্রানী, যে মাছ-মাংস, ফল ,গাছগাছালি থেকে শুরু করে, নিজ স্বজাতির প্রানীকেও খেতে দ্বিধা করেনা। অন্যন্য পশু বা প্রানীদের মত তার কোন নির্দিস্ট খাদ্য তালিকা নেই। আমাদের সমাজে এমন ও অনেক মানুষরুপী অমনিভোরাস প্রানী রয়েছে, যারা শুধু ভাত-মাছ-মাংস-ফল খেয়েই সন্তুষ্ট নন, তারা মানুষের রক্ত-মাংসেও স্বাদ খুঁজে নেন।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া বুয়েক শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যা নিয়ে পুরো দেশবাসীর মধ্যে চলছে শোকের বন্যা। এটাই প্রথম নয়, এমন হত্যাকান্ড রোজ হচ্ছে যা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে ভাইরাল না হওয়ার কারণে।

মানব সভ্যতার ইতিহাতে উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং ভাল কাজের পাশাপাশি সভ্যতাকে ধ্বংস করার যে সকল কর্মকান্ড ঘটছে তা হল মানব হত্যা-গনহত্যা। মানুষ হয়ে মানুষকে নির্মম ভাবে হত্যা করা যৌক্তিক নয় বরং ক্ষমতার অপব্যবহার। আবরার ফাহাদ এর নির্মম হত্যাকান্ড আবারও প্রমাণ করল বর্তমান যুগ আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগের থেকে নিকৃষ্ট।

গত (রবিবার ৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বুয়েটের শের-ই বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে (২১) পিটিয়ে হত্যা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা ৷

কারা হত্যা করেন আবরার কে ?

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা প্রত্যকেই বুয়েটের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা হলেন মেহেদী হাসান, সিই বিভাগ (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ১৩তম ব্যাচ), মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), অনীক সরকার (১৫তম ব্যাচ), মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), ইফতি মোশারফ হোসেন (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), মনিরুজ্জামান মনির (পানিসম্পদ বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাজ, মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোজাহিদুল (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), তানভীর আহম্মেদ (এমই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ) , জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), আকাশ (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), তানীম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোয়াজ, মনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ)।

কিভাবে হত্যা করা হল আবরারকে?

রোববার রাত ৮টার দিকে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী আবরারকে তার কক্ষ্ থেকে ডেকে নিয়ে যান ২০১১ নম্বর কক্ষে। ওই কক্ষে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ও সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ। আবরারকে জোর করে তার মোবাইল ফোনে লগিন করানো হয়। ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ঘেঁটে আবরারকে শিবিরের নেতা হিসেবে উল্লেখ্য করে মেহেদী হাসান রাসেল ও সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। ‘শিবির ধরা হয়েছে’- এমন খবর পেয়ে সেখানে সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী আরও সাত থেকে আটজন নেতা জড়ো হন। তারাও সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এক পর্যায়ে আবরার মারা গেলে রাত ২টার পর তাকে ওই কক্ষ থেকে বের করে হলের সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়।

কেন হত্যা করা হল আবরারকে?

কেন আবরারকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো সেই প্রশ্নের উত্তর তার পরিবার খুঁজে না পেলেও আবরারের সহপাঠীদের দাবি, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়ে দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণেই আবরারকে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। সহপাঠীদের দাবী যে অমূলক নয় তার প্রমান পাওয়া যায় আবরারকে মারধরের সময় ওই কক্ষে উপস্থিত থাকা বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটুর সাক্ষীতে। বিটু বলেন, “আবরারকে শিবির সন্দেহে রাত আটটার দিকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনা হয়। সেখানে আমরা তার মোবাইলে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার চেক করি। ফেসবুকে বিতর্কিত কিছু পেইজে তার লাইক দেয়ার প্রমাণ পাই। সে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। শিবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাই। আবরারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বুয়েট ছাত্রলীগের উপ দপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুজতবা রাফিদ, উপ সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ আইন সম্পাদক অমিত সাহা। পরবর্তীতে প্রমাণ পাওয়ার পরে চতুর্থ বর্ষের ভাইদের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বুয়েট ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার সেখানে আসেন। একপর্যায়ে আমি রুম থেকে বের হয়ে আসি। এরপর হয়তো ওরা মারধর করে থাকতে পারে। পরে রাত তিনটার দিকে শুনি আবরার মারা গেছে।”

২০১১ নাম্বার কক্ষঃ

শেরেবাংলা হলের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ২০১১ নম্বর কক্ষটিতে থাকেন বুয়েটের উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহাসহ ছাত্রলীগের চার নেতা, উপদফতর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবা বিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ ওরফে সকাল এবং প্রত্যয় মুবিন।

ওই কক্ষটি বুয়েট ছাত্রলীগের নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবেই ব্যবহার হতো। আবরারের ওপর নির্যাতন চলার সময় ওই কক্ষে বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ছাড়াও সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপ-দপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবা বিষয়ক উপ-সম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ সকাল, উপ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, ক্রীড়া সম্পাদক নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মিফতাউল ইসলাম জিয়ন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অনিক সরকার, সদস্য মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বী তানিম ও মুজাহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই অবরারকে নির্যাতনে অংশ নেন।

জাতী জানতে চায়, ভারতে কৃত চুক্তি নিয়ে পোস্ট দিলেই কি শিবির হয়? আর শিবির হলেই কি তাকে পিটিয়ে হত্যা করার অনুমতি দেয়া হয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের? জাতী আরো জানতে চায়, এত দুঃসাহস ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা পাচ্ছে কোথায় থেকে?

নিজ দেশের প্রতি ভালবাসা রেখে বিরোধী চুক্তির প্রতীবাদে ফেসবুকে লিখা একটা পোষ্টের কারণে যে দেশে খুন হতে হয়

দেশের সব থেকে সেরা শিক্ষার প্রতিষ্ঠানের একজন মেধাবী দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থীকে, সে দেশ দেশ-প্রেমিকদের দখলে নয়, দালালদের দখলে আছে।আমাদের জন্ময়ই হয়েছে দালালি করবার জন্য। সেটা বৃটিস, পাকিস্তান বা ভারত- যাদের পক্ষেই হোক। আবরার হত্যার ভিডিও ফুটেজ-

শুধু আবরারই নয়, আপনাদের কি রাজনের কথা মনে আছে? শিশুটির নাম শেখ সামিউল আলম রাজন(১২/১৩)। কুমারগাঁও বাসস্টেশন সংলগ্ন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের মাইক্রোবাস চালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে। রাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সে নাকি চুরি করতে গিয়েছিলো। এই তুচ্ছ অভিযোগে ১৬ মিনিট খুঁটির সাথে বেঁধে, রোলার দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাকে বিভৎস নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। কিন্তু রাজনকে হত্যা করে আসামী কামরুল একই দিনে ধরা পরেও বাংলাদেশ পুলিশকে ১২ লাখ টাকার মাধ্যমে হাত করে সে রাতে সৌদী পালিয়ে যায়। বিচার কি হয়েছিল? বিশ্বজিৎ হত্যার আসল আসামী নাকি পাওয়া যায়নি, অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিচার কি হয়েছে? ভিডিওটিতে দেখুন। প্রত্যেকটা আসামীর বায়োডাটা আছে-

 

মধ্য যুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায় যে রাকিব হত্যা, তার আসামী সরিফ ও মিন্টুর মৃত্যুদন্ড কমিয়ে জাবৎজীবন কারাদন্ড করা হয়েছে। কিন্তু কেন? রিশা হত্যা মামলায় ৩ বছর পর ওবায়দুলের মৃত্যুদন্ড হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কিছুদিন পর তারও যে শাস্তি মওকুফ করা হবেনা তার নিশ্চযতা কি?

১৯ বছর বয়সী কুমিল্লা সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী তনুর কথা জাতী ভুলেনি। ২০১৬ সালের ২০শে মার্চ ধর্ষিতা তনুর মৃতদেহ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তে প্রথমবার তনুর ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি বলা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তে তিনজন পুরুষের বীর্যের অস্তিত্ব তনুর অন্তর্বাসে পাওয়া গেলেও কোন আসামীকে সনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় এখন অব্দি কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি। জাতী বোকা নয়। জাতী ঠিকই জানে কেন আসামীদের গ্রেফতার করা হয়নি।

১৯৯৫ এর পুলিস কর্তৃক আলোচিত ইয়াস্মিন ধর্ষণ ও নির্মম হত্যার কথা অনেকেই কয়তো জানেননা। ভিডিওটি দেখুন।

 

২০১১ ৩১শে জানুয়ারীতে ১৪ বছরের হেনা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার কথা জাতী ভুলেনি-

ছয় বছরের আলপনা ধর্ষণ ও হত্যার বিচার কি হয়েছে? দেখুন ভিডিওটি-

 

পৃথিবীর এত পাপ, কে নেবে? এত কষ্ট, এত জ্বালা………কে নেবে এর দ্বায়ভার? ভিতর শুকিয়ে যায়, বুকে টনটনে ব্যাথা সারাক্ষন! বলতে ইচ্ছে করে, হে নারী! সন্তান জন্ম দেয়া হতে বিরত থাকো। এই দেশ তোমার সন্তানের জন্য নিরাপদ নয়।






Related News

  • জেনে নেওয়া জরুরী, মৃত নারী-পুরুষের গোসলদান
  • মেয়েরা যেভাবে আত্মশুদ্ধি করবে: থানভী রহ.
  • আবরার ফাহাদ হত্যা ও কিছু স্মৃতি বিস্মরণ
  • স্মৃতির ক্যাম্পাসে জামেয়া রেঙ্গা
  • চাকুরীর বিজ্ঞপ্তি
  • এই গ্লানি এই সব দুঃস্বপ্ন কোথায় রাখি! কোথায় যাবো? কোথায় শান্তি? চন্দ্রশিলা ছন্দা
  • সিলেটের যানজটের কারণ ও নিরসনে করনীয়: ফাহাদ মোহাম্মদ
  • পবিত্র শবে মেরাজের সংক্ষিপ্ত পরিচিত- আহসান হাবীব শাহ
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *