সর্বশেষ
দক্ষিণ সুরমায় গলাকেটে গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা: আটক ২         ছাত্রলীগের সেই সাবেক নেতার দায়িত্ব নিতে চান কাতার প্রবাসী         আবাসিক হোটেল অভিযান: ১২ নারী পুরুষ আটক         বাহুবলে ইজিবাইক উল্টে নিহত ১         বানিয়াচংয়ে ৪ যানবাহনকে জরিমানা         বুধবার থেকে পণ্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক         সিলেট-গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ সড়কে ধর্মঘট অব্যাহত         কালিঘাটে দুই ভ্যান লবন আটক, ব্যবসায়ীকে জরিমানা         হবিগঞ্জে লবন নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড, ৪ জনের জেল-জরিমানা         রাজনগরে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৪ ডাকাত         বড়লেখায় শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা, যুবক গ্রেফতার         বিশ্বনাথে ট্রাক চাপায় নিহত ১         ওসমানীনগরে কাভার্ডভ্যানচাপায় শিশু নিহত         নবীগঞ্জে ৬০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট         ম্যাজিষ্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের উদ্যোগে পেঁয়াজ পেল সিলেটের ৭ হাজার পরিবার        

স্মৃতির ক্যাম্পাসে জামেয়া রেঙ্গা

ইসলাম ডেস্ক: সর্বপ্রথম শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি সেই মহিয়ান গরিয়ান আল্লাহর, যিনি আমি অদমকে বৃহত্তর সিলেট তথা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কওমী দরগাহ জামেয়া রেঙ্গায় দুই মেয়াদে চার বৎসর যাবৎ লেখা-পড়া করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
সালাত ও সালাম পাঠ করছি সেই মহামানব মুহাম্মদ সা. এর উপর যাকে মহান আল্লাহ মু’আল্লিমুল উম্মাহ, নবীয়ে রাহমাহ, সায়্যিদুল কাওনাইন, খাতিমুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন বানিয়ে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছিলেন।
রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর আহলে বায়েত, সাহাবায়ে কেরাম, সলফে সালেহীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ও তাঁদের অনুসারী সকল মুমিন-মুসলিমের উপর।

লেখার সূচনায় স্মরণ করছি, সেই মহান ব্যক্তিত্ব মাওঃ আরকান আলীকে রাহ. যিনি জামেয়া রেঙ্গার সূচনা ঘটিয়ে ছিলেন। তারপর পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মারণ করছি, মাওলানা বদরুল আলম শাইখে রেঙ্গা রাহ.-কে, যাঁর অক্লান্ত মেহনত মুজাহাদার বদৌলতে জামেয়া তার লক্ষ্যপাণে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে।

জামেয়া রেঙ্গার স্মৃতিচারণ করতে হলে যেসব জ্ঞান-গভীরতার প্রয়োজন, তা আমার জানা নেই, যা লিখব তা জামেয়ার শানে খুবই নগণ্য হবে, বরং তার শানে ত্রুটি হবে বলে আমি মনে করি। তারপরও মনের আবেগে কিছু লিখতে বাধ্য হলাম।
আমি ১৯৯০সালে জামেয়া মাদানিয়া বিশ্বনাথ থেকে এসে “জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গা সিলেট”-এ হেদায়াতুন নাহু জামাতে (সাফেলা চাহারম/ মুতাওয়াস্সিতাহ ৪র্থ বর্ষে) ভর্ত্তী হলাম। আমার ক্লাসে মেধাবী এবং সরল প্রকৃতির অনেক ছাত্র পেলাম। তন্মধ্যে অন্যতম হলেন (মাওলানা) মুঈনুদ্দীন ছাতকী (muinuddin chhataki), (মাওলানা) আব্দুর রহমান কোম্পানী গঞ্জী, (মাওলানা) নাজমুদ্দীন সাহেবজাদায়ে শাইখুল হাদীস আল্লামা শিহাবুদ্দীন রাহ. প্রমুখ। মেহনত মুজাহাদায় তারা আমার অনুপ্রেরণা ছিলেন। ত্রৈমাসিক পরীক্ষায় সম্ভবতঃ মুঈনুদ্দীন ভাই এক নম্বর হয়েছিলেন এবং আমি অদম দুই নম্বর হয়েছিলাম, ষান্মাসিক পরীক্ষায় আমি এক নম্বর হয়েছিলাম এবং মুঈনুদ্দীন ভাই দুই নম্বর হয়েছিলেন। আর ফাইন্যাল পরীক্ষায় বাংলাদেশ আযাদ দ্বীনী এদারা বোর্ডে আমি দুই নম্বর স্থানে মুমতাজ হয়েছিলাম। তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম স্থানে মুমতাজ হয়েছিলেন নাজমুদ্দীন ভাই, মুঈনুদ্দীন ভাই এবং আব্দুর রহমান ভাই। আমি যতটুকু জানি এবছর আমাদের জামাতের প্রতি সকল আসাতিযায়ে কেরামের (মহান আল্লাহ জীবিত সকলকে সুস্থতার সহিত হায়াত দরায করুন এবং মৃত সকলকে জান্নাতুল ফিরদাঊস নসীব করুন) গৌরববোধ করেছিলেন এবং ছাত্র বন্ধুদের আদর স্নেহের নজরও ছিল আমাদের প্রতি। অন্যান্য ফাইন্যাল জামাতেও প্রচুর মুমতাজ ছিল।
পরবর্তী বছর কাফিয়ার জামাতে (আলিয়া আউয়ালে) পড়লাম। এখানে যুক্ত হলেন আরো কয়েকজন মেধাবী ছাত্র বন্ধু। তাদের একজন হলেন, (হাফেজ মাওলানা) ফজলুর রহমান মাধবপুরী। বছরান্তে চলে গেলাম সিলেট দরগাহ মাদ্রাসায়। সেখানে শরহে ইবনে আক্বিল (আলিয়া দুওম) পড়ে আবার চলে আসলাম ভালোবাসায় পূর্ণ আসাতিযায়ে কেরামের টানে মধুমাখা সেই জামেয়া রেঙ্গায়। ভর্ত্তী হলাম মুখতাসার জামাতে (আলিয়া সুওমে)।এখানেও পেলাম আরো কয়েকজন মেধাবী ছাত্র বুন্ধুকে। তাদের একজন হলেন (মুফতী) আজীরুদ্দীন সুনামগঞ্জী, (হাফেয মাওলানা) নূরুদ্দীন সুনামগঞ্জী প্রমুখ।
এবছরও বাংলাদেশ আযাদ দ্বীনী এদারা বোর্ডে আমি সহ আরো কয়েকজনে বি ফাযলিল্লাহ শীর্ষস্হান ও মুমতাজ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে এবং জামেয়ার সুনাম সমুন্নত রাখতে সক্ষম হয়েছিলাম।
আমাদের সময়ে জামেয়া রেঙ্গা ছিল আজাদ দ্বীনী এদারায়ে তালীম বোর্ডে সবার শীর্ষে ।
পরবর্তী বছর জাললাইন জামাতে (আলিয়া চাহারমে) পড়ে ঢাকা রহমানিয়া মাদ্রাসায় চলে গেলাম। কিন্তু……..

জামেয়া রেঙ্গার ভবন, মাটি, তার এলাকা, সাধারণ মানুষের আন্তরিকতা, ছোট-বড় ছাত্র ভাইদের আদর-স্নেহ ও শ্রদ্ধা, খাদেমদের মমতা বিশেষ করে আমি যেসব হুজুরের কাছে পড়তে পেরেছি এবং যাদের কাছে পড়িনাই কিন্তু জামেয়ার উস্তাদগন ছিলেন তাদের যে মধুমিশ্রিত বুলি, সুশীতল আচরণ আজও তা স্মৃতির ক্যাম্পাসে উদ্ভাসিত হয়, আন্দোলিত হয়। তা ভুলতে পারি নাই এবং পারবও না। তাদের ঋণ কখনও শোধ করতে পারবনা এবং শোধ করবারও নয়। তাই জামেয়ার কাছে চির ঋণী রয়ে গেলাম।

পরিশেষে আল্লাহ জাল্লা শানুহুর দরবারে কামনা , তিনি যেন প্রিয় জামেয়াকে আসমানী জমিনী সকল প্রকার বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত রেখে কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর গায়েবী কুদরত দ্বারা টিকিয়ে রাখেন। আমীন

লেখক- মুফতী হাফিজ লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী-(আমেরিকা)






Related News

  • আবরার ফাহাদ হত্যা ও কিছু স্মৃতি বিস্মরণ
  • স্মৃতির ক্যাম্পাসে জামেয়া রেঙ্গা
  • চাকুরীর বিজ্ঞপ্তি
  • এই গ্লানি এই সব দুঃস্বপ্ন কোথায় রাখি! কোথায় যাবো? কোথায় শান্তি? চন্দ্রশিলা ছন্দা
  • সিলেটের যানজটের কারণ ও নিরসনে করনীয়: ফাহাদ মোহাম্মদ
  • পবিত্র শবে মেরাজের সংক্ষিপ্ত পরিচিত- আহসান হাবীব শাহ
  • একজন ভালো রাজনৈতিক নেতা টেকসই গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত: হারুন লোদী
  • প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা কে ‘শুভসমাবেশের ফুলেল শুভেচ্ছা
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *