শুক্রবার, ০৮ ফেব্রু ২০১৯ ০৮:০২ ঘণ্টা

সাহিত্য জীবনের দর্পণ:জেসমিন রুমি

সাহিত্য জীবনের দর্পণ:জেসমিন রুমি

প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ে সাহিত্যের ভাব বিদ্যমান থাকে। সেই ভাবই হলো সাহিত্য। কেউ মনের ভাবকে সাহিত্যের ছন্দময় শব্দে, নান্দনিক ভাষা, শিল্পীগুণে ও মধুময় ভাষায় প্রকাশ করেন, আবার কেউ মনোমুগ্ধকর ভাষায় প্রকাশ করতে পারেন না। যারা প্রকাশ করতে পারেন তারাই কবি, সাহিত্যিক, রচনাশিল্পী। রচনা শিল্পের, মর্যাদা, সম্মান, জ্ঞান,বুদ্ধি, বিবেক সম্পূর্ণ আলাদা। তারাই বুদ্ধিজীবী ও দেশের বিবেক। রচনা শিল্পীরা মেধা খাটিয়ে চমকপ্রদ শব্দ ও ছন্দের সংস্পর্শে অর্থবহ বাক্যে ছড়া, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস ইত্যাদি উপস্থাপন করেন। তাদের জ্ঞানের কথা প্রজন্মের পর প্রজন্মে স্মরণীয় ও বরণীয়,শিল্পী যেমন তুলির ছোঁয়ায় দেশ ও জাতির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন, তেমনিভাবে একজন সাহিত্যকর্মী সাহিত্যের ভাষায় একটি সাধারণ বিষয়কে সাহিত্যে রূপে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। সাহিত্যই ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।কবি ও সাহিত্যিকেরা মনের উৎকর্ষ সাধন করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের আঁকা-বাঁকা চড়াই-উতরাই পথ পেরিয়ে, আবিষ্কার করেন সম্ভবনার নতুন দিগন্ত। সেই দিগন্তের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তা-চেতনায় নতুন পথ আবিষ্কার করেন। এটাই দেশ ও জাতির কাছে মহত্ত্ব। সাহিত্যের জন্ম মানুষের ভাষা থেকে। একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে আমাদের বিশেষ আয়োজনে তরুণ কবি ও লেখক জেসমিন আফরোজ রুমি কথা বলেছেন,উল্লেখ্য এবারের একুশে বই মেলা ২০১৯ এ তার চারটি বই এসেছে তার সবকটি বই পাঠকের নজর কেড়েছে৷একটি কাব্য গ্রন্থ কষ্টলীনা, দুইটি গল্পগ্রন্থ অনেক বৃষ্টি ঝরে ও স্মৃতির ক্যানভাস, একটি শিশুতোষ গল্পের বই। জানাযায়, সৃজনধর্মী কবি জেসমিন রুমি জন্ম ১৯৮০ সালে, জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলায়৷ বাংলা সাহিত্য নিয়ে প্রথমে পাবনা এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করেন৷ বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন। তিনি এক কন্যা সন্তানের জননী৷ পারবিবারিক জীবন ছাড়া, দেশ, মা, ও মাঠির প্রতি তার আলাদা ঠান রয়েছে। সববিষয় নিয়ে তিনি বলেছেন যা পাঠকের জন্য তুলে ধরেছেন আমাদের প্রধান প্রতিবেদক মবরুর আহমদ সাজু
সিলেটের সময়: সাহিত্যে এলেন কেন এবং কিভাবে?
জেসমিন রুমি: বিশেষ কোন উল্লেখযোগ্য উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য জগতে আসা হয়নি, মূলত একটু বড় হয়ে ওঠার পর থেকেই ভিতর থেকে লেখার তাগিদ অনুভব করতাম৷ তখন যা মনে আসতো লিখতাম , প্রতিদিন ডাইরী লিখতাম ৷ছাট ছোট কোন স্মৃতি, ছড়া বা কবিতা লিখতাম৷ ভালো হোক বা মন্দ হোক, এভাবেই লেখার অভ্যেসটা শুরু হয়৷
সিলেটের সময়: মেলায় এবার কী বই আসছে?
জেসমিন রুমি: এবার বই মেলা ২০১৯ এ আমার চারটি বই এসেছে৷ একটি কাব্য গ্রন্থ কষ্টলীনা, দুইটি গল্প গ্রন্থ অনেক বৃষ্টি ঝরে ও স্মৃতির ক্যানভাস, একটি শিশুতোষ গল্পের বই৷

সিলেটের সময়:নতুন বই সম্পর্কে বলুন

জেসমিন রুমি: নতুন কাব্যগ্রন্থের প্রতিটা কবিতা নতুন , যেখানে প্রেম আছে বিরহ আছে, সমাজ পরিবর্তনের কথা আছে, বিবেক বোধ জাগ্রত করার আহ্বান আছে৷ আমি আশা করি পাঠকের ভাল লাগবে৷ স্মৃতির ক্যানভাস আমার জীবনের বিভিন্ন সময়ের টুকরো টুকরো স্মৃতি কথা দিয়ে সাজানো৷ পাঁচটি ছোট গল্প নিয়ে অনেক বৃষ্টি ঝরে গ্রন্থটি৷ গল্প গুলো জীবন ছোঁয়া, সাধারণ মানুষের গল্প৷ কোন উচ্চমার্গ ভাষার ব্যবহার নেই, খুব সাধারন ভাষায় লেখা৷ শিশুতোষ গল্প রাক্ষস’ গল্পটি আমার ছোট বেলায় আমার নানা মুখ থেকে একাধিকবার শুনেছি৷ আমার খুব ভাল লাগতো৷ শোনা গল্পটি আমি আমার ভাষায় লেখার চেষ্টা করেছি, আমি আশাবাদী শিশু কিশোরদের গল্পটি ভাল লাগবে৷ এছাড়া গ্রন্থগুলোর বিষয়বস্তু জীবন ঘনিষ্ট, খুব সাধারন৷ আমাদের আসে পাশে দেখা সব চরিত্র গুলোকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি৷ সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত৷ বলাযায় সাহিত্য জীবনের দর্পণ:
সিলেটের সময়: আপনার প্রবন্ধ/কবিতা/গল্প বা উপন্যাসের পাঠক সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?
জেসমিন রুমি: আমার সকল পাঠকের প্রতি আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ৷ আমি মনে করি পাঠক ছাড়া লেখকের কোন মূল্য নেই৷ পাঠক যতদিন আছে একজন লেখক ততদিন পাঠকের মনে বেঁচে থাকেন৷সাহিত্য জীবন নয়, জীবনকে নিয়েই সাহিত্য। জীবনের এক একটি বিষয় সাহিত্যে ব্যঙ্গ

ময় হয়ে ওঠে। জীবনের অণু-পরমাণু নিয়েই সাহিত্যের সৃষ্টি। মানুষের বিচিত্রময় জীবন থেকেই এর উৎপত্তি। রাষ্ট্রের কড়া অনুশাসন আর সমাজের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেই এর পথচলা। দেহকে সজীব ও কর্মক্ষম রাখতে যে রকম খাদ্য গ্রহণ জরুরি সে রকম আত্মাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যও সাহিত্য দরকার। সাহিত্য মানুষের ভেতরকার আত্মাকে জাগিয়ে রাখে, মনুষ্যত্বকে জিইয়ে রাখে
সিলেটের সময়: বছরের অন্য সময় প্রকাশ না করে মেলায় কেন?
জেসমিন রুমি: মহান ২১ শে বই মেলা বাঙ্গালীর প্রাণের মেলা, এই মেলাকে সামনে রেখে হাজার হাজার বই প্রকাশিত হয় কারন একসাথে বেশী পাঠকের সাথে যোগাযোগ তৈরী হয়, পাঠক লেখকের মেলবন্ধন তৈরী হয়৷ পাঠক লেখকের মাঝে সৌহাদ্য তৈরী হয়৷ যা সারা বছর সম্ভব নয়৷
সিলেটের সময়: সামগ্রিকভাবে মেলা সম্পর্কে আপনার ভাবনা জানতে চাই
জেসমিন রুমি: আমাদের সমাজজীবনে সাহিত্যের অনেক প্রয়োজন। সাহিত্যের সাথে মানুষের সুগভীর সর্ম্পক। সাহিত্য উড়িয়ে দেয়, জীবনের বিষণœতাকে। সাহিত্য ছাড়া মানুষ চলতে পারে না।মেলা নিয়ে আমার ভাবনা খুবই ইতিবাচক ৷ আমার কাছে মনে হয় যেন বিশাল একটা পরিবার এক সাথে হওয়া, হাজার হাজার বই প্রেমী, পাঠক লেখক পরিবার এর মিলনস্থল৷
সিলেটের সময় :মেলা নিয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা?
জেসমিন রুমি: ১৯৯৩ সালে আমি প্রথমবার বাংলা একাডেমী ২১ শে বইমেলাতে যাই৷ তখন আমি অনেক ছোট, এবং হুমায়ুন আহমেদ এর ভীষন ভক্ত৷ দেখা হয়েছিল হুমায়ুন আহমদের সাথে৷ সে এক রিবাট ব্যাপার ছিল আমার জন্য , ওনার বই কেনা, অটোগ্রাফ নেয়া …. অন্যরকম অভিজ্ঞতা ছিল৷ আজও মনে পড়ে ৷ এবং সেই দিনগুলি খুব মিস করি৷
সিলেটের সময় : লেখালেখি চর্চার ক্ষেত্রে প্রেরণা বা প্রভাব কার কাছ থেকে বা কিভাবে
জেসমিন রুমি: মূলত তেমন কারো’র প্রভাব উল্লেযোগ্য নয়, নিজের ভেতরেই অনুপ্রেরণাই মূখ্য৷
সিলেটের সময়: আমাদের দেশে বইমেলার প্রয়োজনীয়তা কী?
জেসমিন রুমি: বইমেলা হলে পরিবার সমাজ পরিবর্তন করতে পারে, কলম কে বলা হয়ে থাকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার৷ এই বই মেলার মাধ্যমে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ বই প্রকাশ হচ্ছে, এখান থেকে ভাল মানের এক’শটি বই যদি উঠে আসে তা হবে আমাদের মানবিক বিকাশের সহায়ক ৷ তাই এই বই মেলার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম৷
সিলেটের সময়: প্রকাশকদের নিয়ে আপনার অভিমত কি?
জেসমিন রুমি: আমি যখন কোন রোগ নিয়ে ডাক্তারের যাই এবং সুস্থতা লাভ করি তখন আমি ঐ ডাক্তারের প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞতা বোধ করি, টাকার বিনিময়টা তুচ্ছ মনে হয়৷ বই প্রকাশ এর বিষয়টাও আমার কাছে এমন মনে হয়৷ হ্যা আমি কিছু অর্থ ব্যয় করে বই প্রকাশ করছি তা ঠিক কিন্তু একজন প্রকাশকের নিরলশ শ্রম ও আন্তরিকতা ছাড়া তা সম্ভব হতোনা৷আমি অবশ্যই প্রকাশকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল৷পাঠকের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল।
সিলেটের সময় :কোন কোন ব্যাপারে মনঃক্ষুন্নতা আছে আপনার?
জেসমিন রুমি: সাহিত্য জীবনের কথা বলে লেখকদের বই প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন৷ এক প্রকাশকের কাছে থেকে বই প্রকাশ করলে আরেক প্রকাশক মনক্ষুন্ন হোন, সম্পর্কে দূরত্ব তৈরী হয় এটা বন্ধ হওয়া একান্ত দরকার৷
সিলেটের সময়: লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
জেসমিন রুমি: যতদিন সুস্থ আছি ততদিন দেশ মা, ওমাঠির জন্য লিখতে চাই৷ আমার লেখায় কৃত্রিমতা থাকবেনা৷ আমার চারপাশে দেখা জানা শুনা চরিত্র গুলোর অন্যায়, অনিয়ম, অসংগতি, বৈষম্য, কপটতা আমি আমৃত্যু তুলে ধরে যাবো সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ,আমার লেখার মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ

সিলেটের সময়: ধন্যবাদ সময় দেয়ার জন্য

জেসমিন রুমি: ধন্যবাদ আপনাকে ও সিলেটের সময় কে, জয়হউক তারুণ্যের।

 

সর্বশেষ সংবাদ

পাঠক

Flag Counter