শনিবার, ০৩ নভে ২০১৮ ০৩:১১ ঘণ্টা

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতে জনগণের সেবক হতে চাই: মাসুম বিল্লাহ

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতে জনগণের সেবক হতে চাই: মাসুম বিল্লাহ

 

ঐতিহ্যের নানা স্থাপনার উপজেলা বানিয়াচং ও হাওরবেষ্টিত আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-দুই আসন। ভোটের রাজনীতিতে এখানে বরাবরই আওয়ামী লীগের আধিপত্য। ১৯৭৯ ও ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ছাড়া বাকি সবকটিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। আসছে একাদশ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার খবরে, এ সংসদীয় আসনে বেড়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা। আওয়ামী লীগের ‘দুর্গ’ খ্যাত হবিগঞ্জ-দুই আসনে বেড়েছে নির্বাচনী তৎপরতা। কৌশলী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতা। এ অবস্থায়, আসন ধরে রাখতে প্রার্থী চূড়ান্তে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেয়ার দাবি স্থানীয় নেতাদের। বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ  রাজনীতি উন্নয়নের রাজনীতি, হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই নৌকার বিকল্প নাই’- এ স্লোগান সামনে রেখে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়নের জন্য সম্ভব্য

প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ মাছুম বিল্লাহ চৌধুরী। গত শুক্রবার (২ নভেম্বর) বিকেলে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি  প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়েছেন । তাঁর প্রার্থীতা ঘোষণায়  হবিগন্জে বইছে আনন্দের ছোঁয়া । জানাযায়  মাসুম বিল্লাহ সৃষ্টিশীল ও উদার চিন্তা চেতনার মানুষ তিনি । নীরবে এলাকার মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন, মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিজেকে গড়ে তুলতে চেয়েছি। শাবিপ্রবিতে অধ্যয়নের সময়ে ছাত্রদল ও শিবির ক্যাডাররা আমাকে দুইবার প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংসভাবে হামলা চালায়। ২০০৪ সালের মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব কর্তৃক আয়োজিত একটি বার্যিক সভায় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আমি যোগদান করি। সেখান থেকে তৎকালীন ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জনের গুন্ডা বাহিনী আমাকে ধরে নিয়ে আসে শাকসু ভবনের সামনে। সেখানে আমার উপর চালানো হয় বর্বরোচিত নির্যাতন। ওই বাহিনী আমাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার মাথা থেকে শুরু করে সমস্ত শরীরে গুরুতর আঘাত করে। গুরুতর আঘাতসহ সমস্ত শরীরে আঘাত করে। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসার পর আমি সুস্থ হই। এখনো শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছি সেই নির্যাতনগুলোর বেদনা। এছাড়া ২০০০ সালে জামায়াত-বিএনপি বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তন করে জিয়ার নামে নামকরণ করার অপচেষ্টা চালায়। কিন্তু সকল নির্যাতন, ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে আমরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলন গড়েতুলি। ছাত্রলীগের কঠিন ও ইষ্পাতদৃঢ় আন্দোলনের মুখে সাইফুর রহমান গংরা বঙ্গবন্ধুর নাম পরিবর্তন করার অপচেষ্টা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। মাসুম বিল্লাহ জানান বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিতে বিশ্বাসী তিনি জনপ্রতিনিধি না হয়েও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন  । একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে হবিগন্জর বিভিন্ন আসনে যে সব নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন, তাদের মধ্যে মাসুম বিল্লাহ অন্যতম। হবিগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান এ ত্যাগী তরুণ রাজনীতিক । এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরছেন নিজ উদ্যোগে। বিষয়টি ভোটারদের নজর কেড়েছে বলে জানা যায় ।  একাদশ নির্বাচনে নিয়ে হবিগন্জের তৃণমূল রাজনীতি ও ভোটের হালচাল  নিয়ে তিনি আমাদের  প্রতিবেদক  মবরুর আহমদ সাজুর সাথে একান্ত কথা বলেছেন। (হবিগঞ্জ-২ আসনের আওয়ামীলীগের  সম্ভাব্য প্রার্থী  মোঃ মাছুম বিল্লাহ চৌধুরী)  যা পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল।

 মবরুর আহমদ সাজু : নির্বাচন নিয়ে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?

মোঃ মাছুম বিল্লাহ চৌধুরী : আওয়ামী লীগ দেশের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। শুরু থেকেই আমরা নির্বাচনে বিশ্বাসী। কাজেই আমার ও আমাদের প্রস্তুতিও সেই শুরু থেকেই। জেলার প্রতিটি উপজেলায় ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত নির্বাচনকে ঘিরে সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন কাজগুলো মানুষের কাছে দৃশ্যমান। এখন চূড়ান্তভাবে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য কাজ করা হচ্ছে।

  মবরুর আহমদ সাজু: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

মোঃ মাছুম বিল্লাহ চৌধুরী : ঐতিহ্যের নানা স্থাপনার উপজেলা বানিয়াচং ও হাওরবেষ্টিত আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-দুই আসন। ভোটের রাজনীতিতে এখানে বরাবরই আওয়ামী লীগের আধিপত্য। আমি দলেরকর্মী  হিসেবে এটুকু বলতে পারি, সাংগঠনিকভাবে আমাদের দল এই দুটি আসনেই অত্যন্ত সংগঠিত। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন জনগণের জন্য। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানামুখী উন্নয়নের কারণে জনগণ আমাদের পক্ষে রায় দিয়ে দুটি আসনেই বিজয়ী করবে বলে আমি আশাবাদী।

মবরুর আহমদ সাজু: নির্বাচন নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো বিভক্তি আছে কি?

মোঃ মাছুম বিল্লাহ চৌধুরী : হবিগন্জ জেলা আওয়ামী লীগে কখনোই কোন্দল বা বিভক্তি ছিল না, এখনো নেই। ব্যক্তি বিশেষের মতানৈক্য থাকতে পারে। এর বেশি কিছু নয়।

মবরুর আহমদ সাজু :  তাড়াহুড়ি করে আপনি তফসিল ঘোষণার ঠিক আগমুহুর্তে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রার্থী ঘোষণা করলেন কেন?

মোঃ মাছুম বিল্লাহ চৌধুরী : আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রের গ্রীণ সিগনাল পেয়ে মাঠে নামলাম।

মবরুর আহমদ সাজু :  আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপিকে কিভাবে দেখছেন?

মোঃ মাছুম বিল্লাহ চৌধুরী: বিএনপি এখন ব্যাকফুটে থাকা একটি দল। তাদের মিছিল মিটিং হলে লোক খুঁজে পাওয়া যায় না। সাংগঠনিক তৎপরতা নেই বললেই চলে। এখন হবিগন্জ  আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বেশ উজ্জীবিত।

মবরুর আহমদ সাজু :   ভোটাররা আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে বলে মনে করেন কি?

মোঃ মাছুম বিল্লাহ চৌধুরী: গণতান্ত্রিক ধারা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে অবশ্যই ভোটাররা আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব নেতৃত্বে স্থান পাচ্ছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যা আমাদের জন্য গর্বের। আর হবিগন্জবাসী তরুণ নেতৃত্ব চায় পরিবর্তন চায় যা বর্তমান সরকার করছে।

মবরুর আহমদ সাজু :   একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনাদের দলের প্রস্তুতি কেমন? জনগণ আপনাদের দলের সঙ্গে থাকবে কেন?

মোঃ মাছুম বিল্লাহ চৌধুরী: বর্তমানে হবিগন্জ জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। যেকোনো অপশক্তিকে মোকাবেলা করার প্রশ্নে আমাদের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। আমাদের দল নির্বাচনের জন্য শতভাগ প্রস্তুত। জনগণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা পরিচালিত হচ্ছে তার ধারাবাহিকতাই আমাদের অঙ্গীকার। এ কারণে জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে এবং ভবষ্যিতেও থাকবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে জেলা আওয়ামী লীগ প্রস্তুত।

মবরুর আহমদ সাজু : আপনি নির্বাচতিত হলে কি করবেন

মাসুম বিল্লাহ:  উন্নয়ন ও নাগরিকের সেবা নিশ্চিত করার জন্য জনগণের সেবক হতে চাই। আমি নির্বাচিত হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ,বাসস্থান, স্যাািনটেসন সমস্যার সমাধান করবো। এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে আমার অবস্থানে থেকে কাজের নীতি-আদর্শকে সামনে রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করব । উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের জন্য সরকারি বা বিরোধী দল প্রয়োজন হয় না। আন্তরিকতা থাকলে যে কোন সমস্যা সমাধানসহ ভালো কাজ করা সম্ভব।

 মবরুর আহমদ সাজু : ধন্যবাদ আপনাকে

মোঃ মাছুম বিল্লাহ চৌধুরী: ধন্যবাদ আপনাকে

সর্বশেষ সংবাদ

পাঠক

Flag Counter