মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টে ২০১৮ ০৯:০৯ ঘণ্টা

একাদশ সংসদ নির্বাচন :সম্ভাব্য দৃশ্যপট রাজনীতি

একাদশ সংসদ নির্বাচন :সম্ভাব্য দৃশ্যপট রাজনীতি

ড. এম এম আকাশ:

এই লেখাটি কিছু শর্তসাপেক্ষে কতিপয় সম্ভাব্য কল্পিত চিত্র তুলে ধরার একটি প্রয়াস। হয়তো বাস্তবে ঘটনা সেভাবে ঘটবে না। আমি সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হবো। শেক্সপিয়রের কথাই সত্য প্রমাণিত হবে, truth is stranger than fiction! পাঠক দয়া করে সেভাবেই লেখাটিকে দেখবেন।
সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে। ধারণা করি, তার আগে, পরে বা যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দল বা বিএনপির দাবি ছিল, এই নির্বাচন হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। পরে তারা এই দাবি থেকে সরে এসেছে। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘সহায়ক সরকারের’ অধীনে নির্বাচন হতে পারে এবং তারা এতে অংশ নেবেন। ‘সহায়ক সরকারের’ একটি রূপরেখা দলের পক্ষ থেকে শিগগিরই দেওয়া হবে- এমন কথা বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বলছে, শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার। এই বিতর্কেও কোনো মীমাংসা হয়ে শেষ পর্যন্ত বিএনপি কি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে?
এদিকে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে। তিনি সচিব হিসেবে এক সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সঙ্গে বিএনপি নেতারা একাধিকবার কথা বলেছেন। এ সময়ে দু’পক্ষের আলোচনা বিষয়ে গণমাধ্যম থেকে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা থেকে ধারণা মেলে যে, নির্বাচন কমিশন প্রশ্নে বিএনপি অনমনীয় অবস্থানে যাবে না। তারা সহায়ক সরকারের কথা বলছে; তবে বর্তমান সরকারের পরিবর্তে অন্য কোনো সরকারের ওপর কতটা জোর দিচ্ছে, সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদি অন্য কোনো সরকার তারা বোঝাত, তবে আগের মতো স্পষ্ট করেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলত, নাম পরিবর্তনের মধ্যে নিজেদের অবস্থান সীমিত রাখত না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সব সময় বলছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। এখন দেখা যাক, সংবিধান নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ে কী বলছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সংবিধানে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা শুধু রুটিন কাজ করবে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন পরিচালনার মূল কাজ করবে নির্বাচন কমিশন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিন মাসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের সব অনুষঙ্গ সংবিধানের ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলবে। সে অনুযায়ী নির্বাচন করার পুরো কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কোনো আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আদেশ বা নির্দেশ দিতে পারবে না।
এখানে প্রধান ইস্যু কয়েকটি। যেমন- প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো অবাধে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে কি-না। যেমন- সরকারি ও সরকারবিরোধী দলগুলোর জন্য সমান সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে কি-না। জনগণের ভোটদানের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে কি-না। অর্থাৎ ভয়ভীতি ও আর্থিক প্রলোভন ছাড়াই পছন্দমতো প্রার্থীকে তারা ভোট দিতে পারছে কি-না। ভোটবাক্সে ভোট প্রদানের পর কোনো ম্যানিপুলেশন করার সুযোগ রয়েছে কি-না। ভোটকেন্দ্র দখল করে ছাপ মারা হচ্ছে কি-না। ভোট গণনা ঠিকমতো হচ্ছে কি-না। ভোট গণনার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরযুক্ত ফলশিট হাতে পাচ্ছে কি-না। ফল প্রকাশের পর জনসাধারণ এমন অভিযোগ করছে কি-না- ভোট দিয়েছি একজনকে, কিন্তু জিতে গেল আরেকজন ইত্যাদি।
উপরোক্ত সব বিষয় পর্যবেক্ষণের জন্য দায়িত্ব প্রধানত নির্বাচন কমিশনের। যেসব গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষক দল মাঠে থাকবেন, নির্বাচন বিষয়ে তাদের মতামত ও মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেহেতু বিএনপি যেভাবেই হোক না কেন বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে গ্রহণ করে নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে; সেহেতু এ অবস্থা বিরাজ করতে থাকলে বিএনপিও এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাই বেশি।
দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্বউলি্লখিত আদর্শ বা স্ট্যান্ডার্ডগুলো কতটা রক্ষা করে অনুষ্ঠিত হবে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, আমাদের সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বহু বছর ধরে সংঘাতের রাজনীতিতে নিয়োজিত রয়েছে। রাজনৈতিক বিজ্ঞানীরা একে বলছেন ক্ষমতা নিয়ে বৈরিতামূলক দ্বন্দ্ব। এ ধরনের দ্বন্দ্বের মানে হচ্ছে, একজনের ক্ষমতা অপরজনের ক্ষমতার জন্য হুমকি। যেসব দেশে নির্বাচনের পর দেখা যায়, Winner Take all চালু আছে, সেসব দেশে এ ধরনের বৈরিতামূলক দ্বন্দ্ব অনিবার্য। সে জন্য এসব দেশে সরকার ও প্রধান বিরোধী দল উভয়ে উভয়ের সঙ্গে আমরণ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। বৈরিতামূলক দ্বন্দ্বের তিন রকম পরিণতি হতে পারে। যে কোনো এক পক্ষ বিলুপ্ত হয়ে গেলেন, অপরপক্ষ ঠিক থাকলেন। কিংবা উভয়পক্ষ বিলুপ্ত হয়ে গেলেন অথবা তৃতীয় পক্ষ তাদের কোনো এক পক্ষকে ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন হলেন। আমার বিবেচনায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেউই হারতে রাজি হবে না; কারণ তাদের উভয়ের কাছে হারের মানে হচ্ছে ‘সর্বস্ব হারানো’। এটা সহজ হিসাব। আওয়ামী লীগের কেউ কেউ এমন ধারণা প্রকাশ করেছেন যে, নির্বাচনে পরাজিত হলে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। অন্যদিকে বিএনপি ভাবছে, যদি নির্বাচনে এবারে হেরে যায় তাহলে হতাশ কর্মী-সমর্থকদের অনেকে দলত্যাগ করে চলে যাবে। এ রকম আশঙ্কা নিয়ে যখন সাধারণ নির্বাচনে দুটি বড় দল মুখোমুখি হয়, তখন তারা সর্বস্ব বাজি ধরেই নির্বাচনী যুদ্ধটা চালাবেন। ফলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি-না, সন্দেহ থেকেই যায়। তবে বাংলাদেশে অতীতে নির্বাচনের আগে-পরে অনেক অশান্তি-সহই নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনোত্তর সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তারা ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশ শাসনও করেছেন।
আবার ভিন্ন যুক্তিও রয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, আওয়ামী লীগ কেবল আগামী সংসদ নির্বাচনে জয়ী হতে চায় না, এই জয়কে বিশ্ববাসীর কাছে গ্রহণযোগ্যও করতে চায়। সেহেতু তারা এ জন্য বিজয় নিশ্চিত করে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। আমি এর আগেই গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের কাছে নির্বাচন কতটুকু গ্রহণযোগ্য হয়েছে সে শর্ত পূরণের কথা বলেছি। এটা করতে হলে অন্তত সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ আসনে দৃশ্যমান গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আবহাওয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে- এটা আওয়ামী লীগকে দেখাতে হবে। অর্থাৎ সে ধরনের দুই-তৃতীয়াংশ আসনে শেষ পর্যন্ত সব দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, রায় না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে ভোটযুদ্ধ থেকে প্রত্যাহার করে নেবে না। ভোটারদের ৫০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। গণমাধ্যম ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ভোটের ফলকে সঠিক বলে রায় দেবে, ইত্যাদি ধরনের একটি দৃশ্য দেশবাসী ও বিশ্ববাসীকে দেখাতে হবে। আমরা বুঝে নিতে পারি যে, আওয়ামী লীগের টার্গেট হবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা। তবে তা এমনভাবে অর্জন করতে হবে, যেন দলের বা জোটের ১৫১ জন জয়ী প্রার্থীরা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী হয়েছেন বলে মানুষ মনে করে।
এখন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সামনে মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন- সেটা বাস্তবে সম্ভব কি? এ ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মত হচ্ছে- দেশে দক্ষিণপন্থি রক্ষণশীল শক্তির বৃদ্ধি এবং তাদের তুলনামূলকভাবে অপেক্ষাকৃত দৃঢ় নেতিবাচক ঐক্য। পক্ষান্তরে আওয়ামী শিবিরে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক সমর্থন ও ঐক্যের ঘাটতি, বামপন্থি ও প্রগতিশীলদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের অতীত সুসম্পর্কের স্বাভাবিক বিচ্ছিন্নতা, সাধারণভাবে মানুষের মনে কয়েকবার একই সরকার দেখার পর Regime Change-এর স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা, সমাজে আওয়ামী ক্যাডারদের দৃশ্যমান অনুপার্জিত আয় ও রাতারাতি বড়লোক হয়ে যাওয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া, সমর্থক মাস্তানের প্রকাশ্য দাপট প্রদর্শন, দলের মধ্যে ও দলের বাইরে অত্যন্ত সংকীর্ণ ধরনের নির্লজ্জ স্বজনপ্রীতি ইত্যাদি কারণে বর্তমানে ফেয়ার ইলেকশন হলে অনেকেই আওয়ামী লীগকে ভোট দেবেন না। ফলে তাদের পক্ষে জয়লাভ সম্ভব নাও হতে পারে। এ কথা সত্য প্রমাণিত হলে আমাদের দেশের মঙ্গল হবে কি হবে না, তা কিন্তু নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের এই শূন্যস্থান কে দখল করছে তার ওপর। এ কথা অন্তত নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, ওই শূন্যস্থানে কোনো উন্নততর বিকল্প না এসে যদি জামায়াত বা অনুরূপ কোনো দক্ষিণপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল দল বা জোট আসে, তাহলে অবস্থার কোনো উন্নতি হবে না, বরং অবনতির আশঙ্কাই বেশি।
বর্তমান সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী নির্বাচনে জয়লাভ সম্ভব, যদি দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব না থাকে। অর্থাৎ তিনি নিজেই আশঙ্কা করছেন, অনেক আসনে আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক প্রার্থী দাঁড়িয়ে যেতে পারে এবং এভাবে নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গ করার মতো পরিস্থিতি ভেতর থেকেই সৃষ্টি করা সম্ভব। তবে আওয়ামী লীগ মহলের সবচেয়ে বড় ভরসা তাদের প্রধান নেতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। বলা যায়, কে কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্তভাবে সে সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। সে জন্য বর্তমান সংসদে দলের যেসব বিজয়ী সদস্য রয়েছেন তাদের অতীত ক্রিয়াকাণ্ড সম্ভবত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নতুন করে যারা প্রার্থী হতে চাইছেন, তাদের গ্রহণযোগ্যতা, জনপ্রিয়তা, নেত্রীর প্রতি আনুগত্য, আর্থিক ক্ষমতা এবং সর্বোপরি যে কোনো পরিবেশে ভোটারদের আস্থা অর্জন করার ক্ষমতা প্রভৃতি বিষয়ে খোঁজখবর করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সঠিক তথ্য পাওয়া। বলা হয়, বর্তমান যুগে তথ্যই শক্তি। সম্ভবত গোয়েন্দাদের তথ্য, নিজের বিশ্বস্ত স্থানীয় কর্মীদের তথ্য, ইতিমধ্যে প্রকাশিত প্রার্থীদের জীবন-ইতিহাস, ইত্যাদি তথ্য- সব যাচাই করেই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মনে হয়। নিজের শিবিরের ঐক্য অটুট রাখা এবং তা আরও প্রসারিত করার চেষ্টাও সম্ভবত তিনি করবেন।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি ওয়াকওভার দেওয়ায় আওয়ামী লীগের সুবিধা হয়েছিল। তখন মুখরক্ষার নির্বাচন আয়োজন করে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। বিএনপি নির্বাচনের আগে শুরু করা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেও এমন কোনো অবস্থা সৃষ্টি করতে পারেনি, যাতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছেড়ে দেয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলেই মনে হয়। বিএনপির লক্ষ্য কী হতে পারে। প্রথম লক্ষ্য হবে, জয়লাভ এবং এমনভাবে জয়লাভ যাতে বর্তমান আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে বিপুল জনমত তৈরি হয়েছে, তা প্রমাণ করা যায়। বিএনপি জোটে এবারে জামায়াতে ইসলামীর প্রকাশ্য উপস্থিতি সম্ভবত হবে না। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এবং রক্ষণশীল ইসলামপন্থিদের ভোট বিএনপি পাবে, আওয়ামী লীগ পাবে না। যদিও আওয়ামী লীগ রক্ষণশীল শক্তির সঙ্গে রফা করার জন্য শেষ মুহূর্তে এসে বৃথা ও আত্মঘাতী চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তাতে ফল তো মিলবেই না বরং প্রগতিশীলদের সঙ্গে তাদের দূরত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।
নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসতে থাকলে এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হতে থাকলে ভোটাররা ধীরে ধীরে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের অবস্থায় পেঁৗছে যাবেন। যদি কোথাও দুই দলের বাইরে উল্লেখযোগ্য ভালো কোনো প্রার্থী থাকে এবং তখন মন্দের ভালো হিসেবে সরকারি দল বা বিরোধী দলের ভোটাররা তাকেই সমর্থন দিয়ে বসেন, তাহলে সেসব প্রার্থীর জয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকবে।
আগামী মাসগুলোতে ময়দানে প্রদর্শিত শক্তির ভারসাম্য যদি একদিকে বিপুলভাবে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে হার নিশ্চিত জেনে অপরপক্ষ নির্বাচনী খেলা থামিয়ে দিতে কিংবা নিজেকে নির্বাচনী খেলা থেকে প্রত্যাহার করে নিতে পারেন। এ আশঙ্কাও এই মুহূর্তে একদম উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ আগেই বলেছি, এবারের নির্বাচনে কেউ হারতে রাজি নয়। একমাত্র জয় সুনিশ্চিত হলেই তারা নির্বাচনী খেলা খেলতে চান। অর্থনীতিতে এ ধরনের খেলার মডেলে Double Bluff না হলে খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে না বলেই ধরে নেওয়া হয়! অর্থাৎ দু’পক্ষই ভাববেন যে তিনি জিতবেন, যদিও তাদের মধ্যে কেউ না কেউ হারবেন এবং সেই অর্থে তিনি তখন আসলে জয়ী প্রতিপক্ষের ধাপ্পার শিকার হবেন।
কেউই যদি Bluffed হতে না চায় এবং সেই আশঙ্কার কারণে নির্বাচনী খেলা না-ই পরিণতি লাভ করে, তাহলে কী হতে পারে? কোনো অসাংবিধানিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে কি? এটা হলে কি তা উভয়পক্ষের সম্মতিতে হবে? নাকি আমরা তখন একটি শূন্যতা বা অব্যাহত এনার্কির মধ্যে পড়ে যাব? কিন্তু লেখাটা শেষ করতে চাই ইতিবাচকভাবে। আসুন, জনগণের পক্ষ থেকে আমরা দাবি তুলি, এবার একটি অর্থবহ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে, যেখানে ‘জনগণের ভোট জনগণ দেবেন, যাকে খুশি তাকে দেবেন।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অধ্যাপক অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ সংবাদ

পাঠক

Flag Counter